
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে খাস পুকুর ইজারা জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে লাথি মেরে আহত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের দুই নেতার নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫–৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, গত সোমবার রাতের দিকে বিরামপুর থানার এক উপপরিদর্শক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি রাহাদুজ্জামান পরাগ, যিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী ওরফে বাবুর ছেলে এবং দিওড় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। অপর আসামি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত সোমবার বেলা ১১টা থেকে ইউএনও কার্যালয়ে উপজেলার অর্পিত পুকুর ইজারার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছিল। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। বেলা পৌনে ২টার দিকে কয়েকজন আবেদন জমা দেওয়ায় বাধা সৃষ্টি করে ইউএনওর কক্ষের সামনে হট্টগোল শুরু করেন।
এ সময় কনস্টেবল নুরুজ্জামান সরকার নিজের মুঠোফোনে পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিও ধারণে বাধা দিয়ে অভিযুক্তরা তাঁকে ধাক্কাধাক্কি করেন এবং একপর্যায়ে লাথি মারেন। এতে তিনি আহত হন এবং পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরে ইউএনও তানজিনা খাতুনের উপস্থিতিতে পুলিশ সদস্যদের ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউএনওর কার্যালয়ে প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং বিএনপির স্থানীয় নেতারা অংশ নেন।
তবে ঘটনাটি নিজের সামনে ঘটেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও তানজিনা খাতুন বলেন, তিনি বিষয়টি ভিডিও ফুটেজে দেখেছেন এবং অভিযোগের বিষয়ে শুনেছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করায় বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে।
এদিকে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি আহত পুলিশ সদস্যকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন পেছন থেকে ওই পুলিশ সদস্যকে লাথি মারা হয় এবং তাঁর নিজের পায়েও আঘাত লাগে। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন জানান, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।