বোরো মৌসুমে সেচের পানির জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় কৃষকদের ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মনোহরগঞ্জের চড্ডায় ¯øুইসগেটটি দীর্ঘ ১ যুগেও মেরামত করা হয়নি

            নিজস্ব প্রতিনিধি\ কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় কৃষকের সেচ সংকট দূর করতে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি ¯øুইসগেট। খরচ হয়েছিল প্রায় ২ কোটি টাকা। কিন্তু নির্মাণের এক বছরের মধ্যে অকেজো হয়ে পড়ে ¯øুইসগেটটি। ফলে কৃষি কাজে কোনো উপকারে আসেনি ¯øুইসগেটটি।

            উপজেলার চড্ডা গ্রামে নদনা খালের মুখে নির্মাণ করা ¯øুইসগেটটি অবহেলায় পড়ে আছে দীর্ঘ এক যুগ ধরে। বর্ষায় খালের পানি বেরিয়ে যায় ডাকাতিয়া নদীতে। আর শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাবে জমি চৌচির হয় কৃষকের।

            নৌ-বাণিজ্যও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, কমে গেছে দেশি মাছের প্রাপ্যতা। অথচ অল্প যতœ আর খাল খনন করলেই বদলে যেতো এই অঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি।

            শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ সম্ভব না হওয়ায় ইরি-বোরো চাষে তীব্র সেচ সংকটে পড়েন স্থানীয় হাজার হাজার কৃষক।

            কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কুমিল্লা ও উত্তর নোয়াখালীর পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের আওতায় ২০০৬-০৭ অর্থবছরে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ¯øুুইসগেটটি। তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, নির্মাণের মাত্র এক বছর পর থেকেই এটি কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে প্রকল্পটির সুফল খুব কম সময়ের জন্যই পেয়েছেন তারা।

            স্থানীয় চড্ডা গ্রামের মো. হোসেন মিয়া, লৎসর গ্রামের মৌলভী আবুল কাশেমসহ একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, ¯øুইসগেটটির সঙ্গে এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষকের জীবিকা জড়িত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এটি অকার্যকর থাকায় নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে চাষাবাদে।

            কৃষক জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ¯øুইসগেটটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো লোকবল নেই। ফলে দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় এর নাট-বল্টু, লোহার পাতসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে।

            স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন খনন না করায় সংকট তৈরি হয়েছে নদনা খালেও। বর্ষা মৌসুমে পানি নামতে শুরু করলে ¯øুইসগেটের ফটক দিয়ে দ্রæত পানি ডাকাতিয়া নদীতে চলে যায়। এতে খালটি অল্প সময়েই পানিশূন্য হয়ে পড়ে। বোরো মৌসুমে সেচের পানির জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় কৃষকদের।

            কৃষকদের দাবি, ¯øুইসগেটটি অকেজো হওয়ার পর কিছুদিন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) পাম্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল। তবে ৩ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সেই ব্যবস্থাও।

            স্থানীয় বাইশগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, ¯øুইসগেটের অকার্যকারিতার কারণে শুধু কৃষি কাজই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না; ডাকাতিয়া নদীর এই শাখা খালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে নৌ-যান চলাচলও। একসময় যে নৌ-পথে বাণিজ্য চলতো, তা এখন প্রায় অচল। বছরের বেশির ভাগ সময় কচুরিপানায় ভরে থাকে খালটি। এছাড়া, নদী থেকে খালে মাছের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কমে গেছে দেশি প্রজাতির মাছের সংখ্যাও।

            স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে দ্রæত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ¯øুইসগেটটি সচল এবং নদনা খাল পুনঃখনন করে এ অঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি রক্ষায় এ এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্যের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহŸান জানিয়েছেন তারা।

            পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত) আব্দুল লতিফ জানান, পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে ¯øুইসগেটটির মেরামত কাজ। তবে বরাদ্দ পাওয়া গেলে দেশের কৃষি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্রæত এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে। -সৌজন্যেঃ আগামীর সময়

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *