👁 403 Views

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় কাঁপছে ইরান

ইরানের বিভিন্ন শহরে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একযোগে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ হামলায় রাজধানী তেহরান-এ একাধিক প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শহরের কেন্দ্রস্থল থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের কেশভারদুস্ত ও পাস্তুর এলাকায় অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, তিনি দুটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভেদ করতে দেখেছেন।

হামলার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের ‘আসন্ন হুমকি’ দূর করা। হামলার পর এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট শিল্প ধ্বংস করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনীকে ‘দায়মুক্তি অথবা নিশ্চিত মৃত্যু’-এর মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সাধারণ ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে।’

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ এ হামলাকে ‘প্রতিরোধমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপদ আছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।

হামলার পর ইরান, ইরাক ও ইসরাইল তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে জেরুজালেমে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে এবং মোবাইল ফোনে নাগরিকদের সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ইসরাইল উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠকের একদিন পর ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান প্রয়োজনীয় ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। তবে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি দাবি করেন, ইরান ইউরেনিয়াম মজুত শূন্যে নামাতে সম্মত হয়েছে এবং বিদ্যমান মজুত জ্বালানিতে রূপান্তর করবে।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ইরান নিম্নমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সম্মত হয়েছিল, যদিও ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগামী সোমবার ইরান ইস্যুতে ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন। তিনি সম্প্রতি ইরানকে ‘অন্যায় আটকাদেশের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে পুনরায় কালো তালিকাভুক্ত করেছেন। রুবিও সতর্ক করে বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে আলোচনা না হলে ইরানের জন্য বড় সমস্যা তৈরি হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, আলোচনায় সফলতা পেতে হলে অপর পক্ষকে বাস্তববাদী হতে হবে এবং অযৌক্তিক দাবি পরিহার করতে হবে।

জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা সোমবার ইরানের সঙ্গে কারিগরি আলোচনা করবে। এএফপির হাতে পাওয়া এক গোপন প্রতিবেদনে সংস্থাটি ইরানকে ‘গঠনমূলক সহযোগিতা’র আহ্বান জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটছে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *