
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় নৌযান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, এটি তাদের প্রতিক্রিয়ার ‘প্রথম ধাপ’; পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সদর দপ্তর কাতাম আল-আনবিয়া এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে তেহরান নতুন করে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রপ্তানির একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে থাকে। ফলে ইরানের এ ঘোষণার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল সীমিত করে দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তি সম্পাদিত হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয় এবং তেহরান জলপথটি পুনরায় খুলে দেয়।
তবে দুই দেশের মধ্যে এখনও কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় উভয় পক্ষের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কিন্তু একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা চুক্তির ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে বলে তিনি আশাবাদী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই।
অন্যদিকে ইরানও নিশ্চিত করেছে যে দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছে। সেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তির বাস্তবায়ন, প্রতিশ্রুতিগুলোর অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফারস নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি ওয়াশিংটন কীভাবে তাদের অঙ্গীকার পূরণ করবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
মেহের নিউজ আরও জানিয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদলটি অল্প সময়ের মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।