
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আগামী রোববার (৭ জুন) ঘোষণা করবেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশের বিচারিক ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি হওয়া আলোচিত মামলাগুলোর একটি হিসেবে এটি স্থান পেতে যাচ্ছে।
মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে গত ১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে ৪ জুন বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপক্ষ দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।
গত ১৯ মে পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্প এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে প্রতিবেশী সোহেল রানা ধর্ষণের পর হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন শিশুটির বাবা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২৪ মে পুলিশ সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ঘোষণা দেওয়া হলে মামলাটির কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক মাসের মধ্যে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও দ্রুত বিচার সম্পন্নের প্রতিশ্রুতি দেয়।
ট্রাইব্যুনালে ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের মধ্যে নিহত রামিসার পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তারা ছিলেন। পরে আসামিপক্ষ তাদের জেরা করে।
গত ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেন দুই আসামি। এ সময় সোহেল রানা ক্ষমা প্রার্থনা করেন, আর স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
দেশে অতীতেও কয়েকটি আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত বিচার হয়েছে। মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা মামলা, নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা এবং রংপুরের একটি ধর্ষণ মামলার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হয়েছিল। তবে রামিসা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে অভিযোগ গঠনের পর অতি অল্প সময়ে রায় ঘোষণার কারণে।
এখন রোববারের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে দেশবাসী।