সরকারি চাকরিজীবীদের সুখবর, নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদনের পথে

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন শেষ ধাপে। নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন মিললে আইনি যাচাই শেষে জারি হবে বহুল প্রত্যাশিত প্রজ্ঞাপন।

সচিবালয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা কমিটির শেষ বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। বিচার বিভাগের বেতনকাঠামো নিয়ে কিছু কারিগরি বিষয় থাকলেও সেগুলোর সমাধান হয়েছে বলে জানা গেছে।

পর্যালোচনা কমিটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, নতুন কাঠামো অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকেই মূল বেতন কার্যকর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। আর বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে। তবে এটি কার্যকর করতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইনি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং পরে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ পর্যালোচনায় ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য একটি কাঠামো তৈরি করেছে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর একই বেতনকাঠামো বহাল থাকায় মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। যদিও সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে, যার বড় একটি অংশ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের নতুন বেতন ও ভাতা বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

সরকারি সূত্র বলছে, অর্থমন্ত্রীর চূড়ান্ত সম্মতি পেলেই বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে। সেটি আগামী বৈঠকেই হতে পারে, নতুবা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন মিললেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পথ উন্মুক্ত হবে।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *