হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্বে সারের সংকট, খাদ্য উৎপাদনে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে রাসায়নিক সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সার ও জ্বালানি রপ্তানিতে বাধা তৈরি হলে এর প্রভাব সরাসরি বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যদ্রব্যের দামে পড়তে পারে।

রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সারের সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে অনেক দেশ নির্ধারিত মৌসুমে প্রয়োজনীয় ফসল রোপণে সমস্যায় পড়তে পারে। বিশেষ করে এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার কৃষিনির্ভর দেশগুলো এতে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সারের দাম বেড়ে গেলে বড় খাদ্যশস্য উৎপাদক দেশগুলো বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকতে পারে। এতে গম, ভুট্টাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদন খরচ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে গম, সয়াবিন ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়বে।

সূত্র: Al Jazeera, FAO.

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *