
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ১০৫টিরও বেশি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে প্রায় ২ হাজার ৪০০ নাবিক আটকা পড়েছেন। ট্যাঙ্কার মালিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আপাতত চালু করা সম্ভব নয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়, ফলে এর বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলছে।
বিবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে ইন্টারট্যাঙ্কোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিম উইলকিন্স বলেন, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে বহু নাবিক ইরানের উপকূলে আটকে আছেন। জাহাজে অবস্থানরত নাবিকদের মধ্যে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জাহাজে থাকা ক্রুদের সীমিত খাদ্য ও পানির মধ্যেই দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে, এমনকি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নিজেরাই সামলাতে হচ্ছে। অনেক নাবিক জানেন না, কবে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে উত্তেজনা কমেনি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালিতে জাহাজ আটকের ঘটনা এবং হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
গত সপ্তাহে ইরান দুটি কার্গো জাহাজ ‘পরিদর্শনের’ নামে আটক করে। অন্যদিকে, ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে এবং একাধিক নৌযান আটক করে। অনেক জাহাজকে পথ পরিবর্তন বা বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, আর হাজারো নাবিকের বাড়ি ফেরার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি