সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

চান্দিনা পৌর ভবনের উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ

চান্দিনা পৌর ভবনের উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ
৫৬ Views

            নিজস্ব প্রতিনিধি\ কুমিল্লার চান্দিনা পৌর ভবন সংস্কারে ৪০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পৌর ভবনের প্রধান ফটকসহ সীমানা প্রাচীর উন্নয়ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন মো. আসাদুজ্জামান দুলাল নামের এক ব্যক্তি।

            গত বৃহস্পতিবার (৯ই অক্টোবর) পৌর প্রশাসক বরাবর লিখিত ওই অভিযোগটি করেন তিনি। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন পৌর ভবনের ৪০ লাখ টাকার সংস্কার কাজের মধ্যে ১৬ লাখ টাকার এসএস (স্টেইলনেস স্টীল) গেট ও গ্রিলে নিম্ন মানের মালামাল সরবরাহ করা হয় এবং সিডিউল মোতাবেক কাজ হচ্ছে না। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ক্ষতির মুখে পড়বে পৌরসভা।

            খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার ৭টি পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (আইডিএফপিসি)-এর আওতায় চান্দিনা পৌরসভার দু’পাশের সীমানা প্রাচীর, তার ওপরে এসএস গ্রিল এবং ছোট বড় মোট ৪টি ফটকে এসএস গেট নির্মাণ কাজে ২০২৪ সালের ২০শে নভেম্বর দরপত্র আহবান করা হয়। ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ের ওই কাজটি পায় মেসার্স নজরুল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ১.১ মিটার উচ্চতা ও ৭৪ মিটার দৈর্ঘ্যরে সীমানা প্রাচীরের গ্রিল এবং ছোট-বড় চারটি গেটে ১.৫ এমএম পুরুত্বে এসএস পাইপে গ্রিল ও গেটের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা।

            কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গেটের ফ্রেমে ১.৫ এমএম পাইপ দিলেও বাকি সবগুলোতে ব্যবহার করেছে ১ এমএম পুরুত্বের এসএস পাইপ। এছাড়া সীমানা প্রাচীরে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের ইট ও কংক্রিট। এ কাজের মধ্য দিয়ে ঠিকাদার উত্তোলন করেছে তার প্রথম বিল।

            অভিযোগকারী মো. আসাদুজ্জামান জানান, পৌরসভা ভবনের উন্নয়ন কাজে যদি এমন অনিয়ম ও দুর্নীতি হয় তাহলে বাকি কাজ চলবে কিভাবে? এখানে পৌরসভার একাধিক প্রকৌশলী আছেন, প্রতিদিন তাদের চোখের সামনেই এমন অনিয়মের কাজ হচ্ছে কিভাবে? আমি চ্যালেঞ্জ করে বলবো এখানে ১.৫ এমএম এসএস পাইপ দেয়া হয়নি, এখানে সর্বোচ্চ ১ এমএম এসএস পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে খরচ কমবে ৪০ শতাংশ।

            মেসার্স নজরুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. নজরুল ইসলাম জানান, আমি ওয়ার্কশপে ১.৫ এমএম স্টেইনলেস স্টিলের পাইপ দিয়েই অর্ডার দিয়েছি। কিন্তু ওই ওয়ার্কসপ মালিক যদি কোনো মালে অনিয়ম করে থাকে তাহলে সেগুলো আমি সিডিউল মোতাবেকই করে দেব।

            চান্দিনা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাত হাসান জানান, সবগুলো কাজ দেখার তো সুযোগ নেই। কাজ শেষ হলে সিডিউল মোতাবেক আমরা সব কাজ দেখে বুঝে নেব। কাজের মান খারাপ হলে ঠিকাদার পরিবর্তন করতে হবে।

            পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, আমরা  ঠিকাদারকে এ পর্যন্ত কাজের মোট বিলের ১৫ শতাংশ বিল প্রদান করেছি। কাজ সম্পূর্ণ এখনো অনেক বাকি। অভিযোগকারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিকাদারকে আমরা সিডিল মোতাবেক কাজ করতে চিঠি দিয়েছে। এখানে কাজের ফাঁকি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

Share This

COMMENTS