দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খোলা স্থানে ময়লার স্তÍুপ!


নিজস্ব প্রতিনিধি\ কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে খোলা স্থানে ময়লার ভাগাড় তৈরির অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশের আবাসিক এলাকার সীমানা ঘেঁষে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ ভাগাড় তৈরি করা হয় বলে জানা গেছে। এতে হাসপাতালের রোগী, পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দারা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালের বর্জ্য ও বাসাবাড়ির ময়লা একত্রে ফেলে রাখায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে।
প্রতিবেশী ও ভাড়াটিয়া ডিপ্লোমা চিকিৎসক কুহিনূর আক্তার এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ পাশে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো এলাকায়।
অভিযোগকারী কুহিনূর আক্তার জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম খানের সঙ্গে চিকিৎসা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে তার নির্দেশে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা খোলা স্থানে ময়লা ফেলছেন। তিনি আরো বলেন, আমার পাশের বাড়ির আরেক ডিপ্লোমা চিকিৎসক একইভাবে রোগী দেখেন, কিন্তু তার প্রতি এমন আচরণ করা হয়নি।
বাড়ির মালিক সফিউল্লাহ মানিক জানান, আমরা প্রায় ৫০ বছর ধরে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করছি। এখন সেই পথে দুর্গন্ধ ও ময়লার কারণে চলাচল কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, দালাল, মাদকাসক্ত ও ছিনতাইকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও কেউ কেউ বস্তা ফেলে, মই লাগিয়ে যাতায়াত করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম খান বলেন, আমরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দালালমুক্ত করতে কাজ করছি। গত ২৯শে অক্টোবর এক বালক রোগী বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া খেয়ে সে কুহিনূরের বাসায় আশ্রয় নেয়। এখন তারা শিশুদের দালাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তাই ওই অবৈধ পথে চলাচল বন্ধে আমরা সেখানে ময়লার ভাগাড় তৈরি করেছি।
ইউএনও রাকিবুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্মুক্ত স্থানে ময়লার ভাগাড় করা অনুচিত। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
