বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চান্দিনা পৌরসভায় জন্মনিবন্ধনের ২০ লাখ টাকা জমা হয়নি সরকারি কোষাগারে!

চান্দিনা পৌরসভায় জন্মনিবন্ধনের ২০ লাখ  টাকা জমা হয়নি সরকারি কোষাগারে!
৯০ Views

            মো. আবদুল বাতেন\ চান্দিনা পৌরসভার জন্মনিবন্ধন বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চরমে পৌঁছেছে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত নাগরিকদের জন্মনিবন্ধন বাবদ আদায় ২০ লক্ষাধিক টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মচারীদের যোগসাজশে এ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

            জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত চান্দিনা পৌরসভায় ২০০৬ সাল থেকে হাতে লেখা জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসাবে ২০১২ সালের শেষ দিক থেকে জন্মনিবন্ধন অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়। জন্মনিবন্ধন বিধি অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত বিনা ফিতে, ৫ বছরের নিচে শিশুর জন্মনিবন্ধনের সরকারি ফি ২৫ টাকা ও ৫ বছরের বেশি বয়সের ক্ষেত্রে ফি ৫০ টাকা নির্ধারিত। কিন্তু বাস্তবে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে এর চেয়ে বহুগুণ বেশি টাকা আদায় করা হলেও ন্যূনতম সেই ফি সরকারি অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার সচিব থেকে শুরু করে জন্মনিবন্ধন কাজে নিয়োজিত কিছু অসাধু কর্মচারী ওই অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করে আসছেন।

            ২০০৬ সাল থেকে হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন ফি ২৫-৫০ টাকার স্থলে কমপক্ষে একশ’ এবং সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিতরা। সেই মোতাবেক বর্তমান পর্যন্ত জন্মনিবন্ধন বাবদ আদায় করা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

            এদিকে জন্মনিবন্ধন সেবার সার্ভার প্রায়ই অচল থাকায় সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। দিনের পর দিন পৌরসভায় ঘুরেও কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না অনেক আবেদনকারী। সেবাগ্রহীতারা জানান, সার্ভার সমস্যা ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কারণে তারা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কেউ কেউ দাবি করছেন, ২৫ বা ৫০ টাকার পরিবর্তে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। তবুও সময়মতো সেবা মিলছে না।

            চান্দিনা পৌরসভার জন্মনিবন্ধন কাজে নিয়োজিত টিকাদান সুপারভাইজার মো. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, জন্মনিবন্ধনের মাসিক টার্গেট পূরণের জন্য মেয়ররা বিনামূল্যে অনেক জন্মনিবন্ধন করেছেন। ২০২২ সাল থেকে বকেয়াটা আরও বৃদ্ধি পায়। এখানে আমি বা আমার দপ্তর কোনো টাকা আত্মসাৎ করেনি।

            এ ব্যাপারে পৌর প্রশাসক ও চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, পৌরসভা থেকে জন্মনিবন্ধন বিনামূল্যে দেয়া হয় না, তাহলে কেন বকেয়া থাকবে সেটা আমারও প্রশ্ন। বিষয়টি আমি জানার পর কোন অর্থবছরে কত টাকা বকেয়া সেই হিসাব চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। সেখান থেকে উত্তর আসার পর তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বকেয়ার কারণে সার্ভার বন্ধ থাকার বিষয়টি সঠিক না। মূলত সার্ভার জটিলতায় মাঝেমধ্যে বন্ধ থাকে।

Share This

COMMENTS