১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত বুড়িচং আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি এখন প্রভাবশালী চক্রের দখলে

নিজস্ব প্রতিনিধি\ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা সদরে অবস্থিত আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠটি এখন প্রভাবশালী একটি চক্রের দখলে। মাঠজুড়ে প্রকাশ্যেই ইট, বালি ও পাথরের মতো নির্মাণসামগ্রী মজুদ ও বিক্রি করা হচ্ছে, ফলে স্কুল-কলেজের শত শত শিক্ষার্থী নিয়মিত খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মাঠের একাংশ গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর অন্য অংশে রয়েছে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণকেন্দ্র। ভারী যানবাহন চলাচল এবং নির্মাণসামগ্রীর স্তূপের কারণে মাঠটি এখন কার্যত বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে।
গত সোমবার (১২ই জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মাঠটির চারপাশে রয়েছে এরশাদ ডিগ্রি কলেজ, কালীনারায়ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বুড়িচং পাবলিক স্কুল ও আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। অদূরে রয়েছে হাজী ফজর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দু’টি মাদরাসা। অন্তত ১০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এই মাঠে খেলাধুলা করতেন। জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ ও আন্ত উপজেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানও এখানে অনুষ্ঠিত হতো।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, দিনের আলোতেই খেলার মাঠে ব্যবসা চলছে। যারা বাধা দিতে চায়, তাদের ভয় দেখানো হয়। তাই অনেকেই চুপ করে আছে। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি আহমেদ বলেন, আমাদের খেলাধুলার জায়গা কেড়ে নেয়া হয়েছে। মাঠে নামলেই ট্রাক আর ইটের স্তূপ চোখে পড়ে। খেলা করতে না পারায় আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি। মাঠ ছাড়া আমাদের আর কোনো জায়গা নেই।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছয়ায় দিনের পর দিন মাঠ দখল হলেও প্রশাসনের নীরবতা তাদের আরো বেপরোয়া করে তুলেছে। তারা দ্রæত মাঠটি দখলমুক্ত করে চারপাশে দেয়াল নির্মাণ ও খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি বেদখল হয়ে আছে। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্তে¡ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা ঠিকাদারকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে কাজে বাধা দিয়েছে, ফলে দেয়াল নির্মাণ সম্ভব হয়নি।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খেলার মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা করা শিক্ষার্থীরাও অভিযোগ করেছে। আগে কয়েক দফা দখলদারদের বিরুদ্ধে নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে। দ্রæত সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে মাঠটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হবে।
