👁 162 Views

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার শ্রদ্ধা

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপরই শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় মাইকে একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ বাজতে থাকে। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তাঁদের স্বাগত জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী ভাষাশহীদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব নাজির মাহমুদ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। সর্বশেষ স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা **জাইমা রহমান**কে সঙ্গে নিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলামমুজিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরাও ভাষাশহীদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন।

এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিক, নির্বাচন কমিশন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুরো এলাকা ৬৪টি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখা হয়। পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বম্ব ডিসপোজাল টিম ও ক্রাইম সিন ইউনিট দায়িত্ব পালন করে। গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিংও চালু থাকে।

শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে শাহবাগ, নীলক্ষেত, শহীদুল্লাহ হল, হাইকোর্ট, চাঁনখারপুল, পলাশী ও বকশীবাজার—এই সাতটি ক্রসিংয়ে ডাইভারশন দেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী, শ্রদ্ধা নিবেদনে আগতদের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে বলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *