👁 497 Views

উদ্বোধনের ২ দশক পর নাঙ্গলকোটের গোহারুয়া ২০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা শুরু

            নিজস্ব প্রতিনিধি\ দীর্ঘ দুই দশক পর কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। গত

বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। এসময় নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোঃ জয়নাল আবেদীন, স্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবুল খায়ের, আরএমও ওমর কাইউয়ুম উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে বহির্বিভাগ বিভাগ সেবা চালু করা হয়েছে। এতে পাশ্ববর্তী ৪টি উপজেলার চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষ উপকৃত হবে।

            জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১৫ই এপ্রিল নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের গোহারুয়া গ্রামে সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভ‚ঁইয়ার উদ্যোগে ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। উপজেলার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে হাসপাতালটির অবস্থান হওয়ায় নাঙ্গলকোট, সোনাইমুড়ি, মনোহরগঞ্জ ও সেনবাগ উপজেলার সীমান্ত এলাকার লক্ষাধিক মানুষ এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় প্রতীক্ষার প্রহর গুনতেছিল।

            ২০০৬ সালের ১৩ই জুন গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ওই বছরের ১৭ই অক্টোবর জনবল নিয়োগ না করেই তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আমানউল্লাহ আমান হাসপাতালটির বহিঃবিভাগ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের প্রায় দুই মাসের মধ্যে জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কেটে যায় বছরের পর বছর। দীর্ঘসময় বন্ধ থাকায় হাসপাতাল এলাকা ঝোঁপ-জঙ্গলে ছেয়ে যায়। হাসপাতালের চারদিকে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়।

            ২০১৪ সালের ৪ঠা জুন হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার জন্য কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন মুজিবুর রহমান স্বাস্থ্য সচিবের কাছে চিঠি দেন। ওই চিঠিতে জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকের ৬টি এবং নার্স ও কর্মচারীর ৬টি পদ অনুমোদন দেয়া হয়। বিভিন্ন পদে আরও জনবল প্রয়োজন থাকলেও নিয়োগ দেয়া হয়নি। রোগীদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করা হয়নি। আন্তঃবিভাগে চিকিৎসার জন্য ছিল না কোনো শয্যা। এতে করে সংকট আর সমস্যা থেকেই যায়।

            ২০১৫ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ওই বছরের ২২শে অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালটি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের চিকিৎসাসেবা চালুর নির্দেশ দেন। ওই সময় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী শওকত মহীবুর রব হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার জন্য ২ কোটি ৫৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬০১ টাকা বরাদ্দ চান। কিন্তু ওই বরাদ্দ না দেয়ায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান হয়নি।

            এরপরও নানা সংকট ও সমস্যার মাঝে ২০১৫ সালের ৫ই নভেম্বর পুনরায় হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় তৎকালীন পরিচালক ডা. আলাউদ্দিন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মজিবুর রহমান হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন।

            অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় দফায় হাসপাতালের বহিঃবিভাগ উদ্বোধন করা হলেও চিকিৎসাসেবার অবস্থা ছিল বেহাল। চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের খেয়াল খুশিমতো আসতেন আর আর যেতেন। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছিল অপ্রতুল। নিয়োগপ্রাপ্ত ২/১জন চিকিৎসক তাদের সুযোগ-সুবিধামতো আসলেও ধীরে ধীরে তারাও আসা বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) আজিজুর রহমান ও ওয়ার্ড বয় রাকিবুল হাসান জোড়াতালি দিয়ে সপ্তাহে ২/৩দিন চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। কিন্তÍু ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে সরকারের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক চিকিৎসাসেবা না দেয়ায় রোগীরা ক্ষোভে হাসপাতালে আসা বন্ধ করে দেন।

            ২০১৭ সালের ২৬শে ফেব্রæয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী, স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। ওই সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালটি পুরোদমে চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেন। অথচ দীর্ঘ সময়েও কোন অদৃশ্য শক্তির কারনে তা পূরণ না হওয়ায় হাসপাতালটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।

            গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু না হওয়ায় এলাকার মানুষকে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে নাঙ্গলকোট, লাকসাম ও জেলা শহর কুমিল্লায় অর্থ ও সময় অপচয় করে যেতে হয়। হাতের নাগালে সরকারি-বেসরকারি বিকল্প কোনো চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান না থাকায় ওই এলাকার রোগীদের দূর-দূরান্তের হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীদের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরন করতে হয়।

            সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি ছিল গোহারুয়া ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেন। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে হাসপাতালটির বহির্বিভাগ বিভাগ চালু করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় রোগীরা এখন থেকে নিয়মিতভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন।

            স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, বিএনপি সরকারের সময় বানানো হাসপাতালটি দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিলো। এখন আবার চালু হয়েছে। এটির জন্য ২৫ লাখ টাকার ডিপিপি চালু করার প্রক্রিয়ায় আছে। এখানে ২০ শয্যা হাসপাতাল ভবন ছাড়াও চিকিৎসক ও নার্সদের থাকার আলাদা আলাদা ভবন, স্টাফ কলোনীর ভবন রয়েছে। এখন হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও আসবাবপত্র সরবরাহ হলে দ্রæত সময়ের মধ্যে এটি পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *