
নিজস্ব প্রতিনিধি\ কুমিল্লার তিতাস ও দাউদকান্দি থানা এলাকায় দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ১২ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (২৭শে ফেব্রæয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তিতাস ও দাউদকান্দির বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে তিতাস থানার উজিরাকান্দি ও কাকিয়াখালী গ্রামের দু’টি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। উজিরাকান্দি গ্রামের মৃত এমদাদুল হকের স্ত্রী নাছরিন আক্তারের বাড়িতে গেইটের তালা ভেঙে এবং কাকিয়াখালী গ্রামের মৃত মমতাজ মিয়ার স্ত্রী মঞ্জুরা বেগমের বাড়িতে দরজা ভেঙে ডাকাত দল প্রবেশ করে। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় তিতাস থানায় পৃথক দু’টি মামলা (মামলা নং- ১৪ ও ১৫) রুজু হয়।
ঘটনার পরপরই কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান, পিপিএম-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) ও সহকারী পুলিশ সুপার (দেবিদ্বার সার্কেল)-এর নেতৃত্বে অভিযানে নামে পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), তিতাস থানা ও দাউদকান্দি মডেল থানার সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- জীবন মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, নাসির, আবু তাহের, জামাল ওরফে কুদ্দুস, ওবাইদুল, হানিফ, সৌরভ হোসেন, জহির, মকবুল হোসেন ও কামাল। এদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক ডাকাতি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে।
ডাকাতদের হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত নিম্নলিখিত মালামাল উদ্ধার করা হয়-স্বর্ণ ও রূপা, স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, রূপার নূপুর, ব্রেসলেট ও চেইন। নগদ ৩৭,২৪৭ টাকা, ১৩টি মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা, রাউটার, টর্চ লাইট ও বেøন্ডার মেশিন, ডাকাতিতে ব্যবহৃত ২টি সিএনজি, বড় কাটার (২৪ ইঞ্চি), লোহার শাবল (৩২ ইঞ্চি), রড ও ছুরি, মুখোশ, হাফ প্যান্ট, সিটি গোল্ডের গয়না এবং লুণ্ঠিত বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তিতাস ও দাউদকান্দির এই দু’টি ঘটনা ছাড়াও চান্দিনা, ব্রাহ্মণপাড়া ও দাউদকান্দি এলাকার আরও ৯টি ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ডাকাতি করে আসছিল। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।