👁 255 Views

চৌদ্দগ্রামে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা কানাইল খাল পাড়ে রাখা মাটি প্রশাসনের অজ্ঞাতে বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়

            মো. আকতারুজ্জামান\ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বারাইশ-নবগ্রাম সেতুসংলগ্ন এলাকায় কানাইল খালের পাড়ের ফসলি জমি থেকেও অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে একটি অসাধু চক্র। আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দে কানাইল খাল খনন করে পাড়ে রাখা মাটি ও পাশের ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়।              উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বারাইশ-নবগ্রাম সেতুসংলগ্ন উত্তর পাশের মাটি কেটে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্রটি। তারা দীর্ঘদিন ধরে বারাইশ-নবগ্রাম এলাকার পাশের ইটভাটাসহ অন্তত ৫-৬টি ভাটায় নদী ও ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে আসছে।

            মাটি কাটায় অভিযুক্ত চক্রটি নদীর পাশের বারাইশ গ্রামের। তারা বারাইশ ও নবগ্রাম এলাকার পাশের ‘মেসার্স ভাই ভাই-১’ ও ‘মেসার্স ভাই ভাই-২’ নামের দু’টি ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছে। মাটি কাটায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নামের তালিকায় রয়েছে- বারাইশ গ্রামের আবদুল হালিমের ছেলে জামাল উদ্দিন, শামছুল হকের ছেলে বদিউল আলম, কাশেম ভূঁইয়ার ছেলে মো. রানা, বছন আলীর ছেলে মো. ফারুক এবং একই গ্রামের আবদুল মান্নান।

            জানা গেছে, গত বছর কানাইল খালের মাটি বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বারাইশ গ্রামের অসাধু এ চক্রটির সঙ্গে যুবসমাজের একাধিক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। তবে মাটি কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বারাইশ গ্রামের জামাল উদ্দিন ও বদিউল আলম। তারা বলেন, ‘আমরা কানাইল খালের এবং ফসলি জমির মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত নই। একটি মহল আমাদের নাম প্রচার করছে।’

            তবে স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, মাটি কাটার অন্যতম হোতা জামাল এবং বদিউল আলম। তারা দিনরাত খালপাড়ের এবং পাশের ফসলি জমির মাটি কেটে ভাই ভাই নামের দু’টি ইটভাটায় বিক্রি করছেন।

            উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, পুকুর-খাল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ধনুসাড়া মিজির সেতু থেকে মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সিংরাইশ সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কানাইল খালটি পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৪৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে ২০২২ সালের ৩০শে নভেম্বর কাজটি সম্পন্নের দায়িত্ব পায় দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকার ‘মেসার্স লিবার্টি ট্রেডার্স’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

            ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিবার্টি ট্রেডার্সের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খালপাড়ের মাটি কেউ কাটছে কি না, আমার জানা নেই। আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। এলাকায় এসে খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করব।’

            উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘ধনুসাড়া সেতু থেকে সিংরাইশ সেতু পর্যন্ত কানাইল খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে।’

            চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিন বলেন, ‘কানাইল খালপাড়ের মাটি কেটে নেয়ার বিষয়টি জেনেছি। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *