
চলমান সংঘাতের অবসানে ইরানের সঙ্গে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো চুক্তি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৬ই মার্চ (শুক্রবার) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না, যদি না তারা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে। এ তথ্য জানানে হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে চালানো হামলা বা সংঘাতের সম্ভাব্য সমাপ্তি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেননি। তবে টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রশাসনের লক্ষ্য চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই অর্জন করা। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। আমরা কাজটি শেষ করতে চাই।
তদপুরি, ট্রাম্প আরো দাবি করেন যে, ভবিষ্যতে ইরানে একটি গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠনে কাজ করবে। তিনি লেখেন, এরপর আমরা এবং আমাদের সাহসী মিত্ররা একসঙ্গে কাজ করে ইরানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনবো এবং ইরানকে আগের চেয়েও বড়, উন্নত ও শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত করা হবে। পোস্টের শেষে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে। মেক ইরান গ্রেট এগেইন (MIGA)।’ মূলতঃ বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হিসাব–নিকাশটা ছিল এমন যে, এই সামরিক অভিযান চালাতে খুব কমসংখ্যক মার্কিন নাগরিকের প্রাণহানি হবে এবং অর্থনীতিতে সামান্যই প্রভাব পড়বে। তবে ইরানে যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতেই ট্রাম্পের সেই ধারণা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে গেছে।
ইতিমধ্যেই ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদেশগুলো হামলার মুখে পড়েছে। শেয়ারবাজার টালমাটাল হয়ে গেছে। গ্যাসের দাম বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রতিদিন লাখ লাখ ডলার খরচ করছে। ওদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানে মেয়েদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বিচার বিমান হামলায় ১৭৫ জন নিহত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই হামলার জন্য কে দায়ী, তা নিয়ে তারা তদন্ত করছে। এতে খোদ মার্কিন তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, এই হামলার জন্য সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র দায়ী! Ref: thikananews