👁 371 Views

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সংসদে উত্তেজনা, বিক্ষোভ শেষে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণকে কেন্দ্র করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে প্রায় পাঁচ মিনিট বিক্ষোভ দেখানোর পর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য সংসদে আমন্ত্রণ জানালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম বক্তব্য দেওয়ার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্পিকার মাইক না দিলে তিনি দাঁড়িয়ে ‘কিলার ইন দা পার্লামেন্ট’ বলে প্রতিবাদ জানান এবং ‘নো, নো’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

তখন বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে শুধু জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান নিজের আসনে বসে ছিলেন। স্পিকার বারবার বিরোধীদলীয় সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান, তবে তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।

একপর্যায়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ‘কিলার চুপ্পু, বয়কট চুপ্পু’ স্লোগান দেন। এই হইচইয়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষে প্রবেশ করে স্পিকারের আসনের পাশে দাঁড়ান। স্পিকার তাঁকে নির্ধারিত আসনে বসার অনুরোধ জানান। তখনো বিক্ষোভ চলছিল।

রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে দাঁড়ালে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনি রাষ্ট্রের অভিভাবক ছিলেন। কিন্তু আপনি সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। আপনি ফ্যাসিবাদের দোসরের ভূমিকা পালন করেছেন।’ এ সময় বিরোধী দলের অন্যান্য সদস্যরা ‘গেট আউট, গেট আউট’ বলে স্লোগান দেন। কিছুক্ষণ রাষ্ট্রপতি নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকেন।

এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘স্বৈরাচারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদ আর গণতন্ত্র একসাথে চলে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শুরু করেন। পরে বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারি দলের সদস্যদের উদ্দেশে ‘লজ্জা লজ্জা’ বলে বিদ্রূপ করেন এবং বিক্ষোভের একপর্যায়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *