
বিশেষ সংবাদদাতা॥ খুলনার কয়রায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মোংলায় ফেরার পথে বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ প্রায় একই পরিবারের ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ই মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, বর সাব্বির আহমেদ (৩০), নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু (২৫), মিতুর নানি আনোয়ারা (৭০), দাদি রাশিদা বেগম (৭৫), বোন লামিয়া (১২), বরের পিতা আব্দুর রাজ্জাক (৭০), মা আঞ্জুমান বেগম (৬০), বরের ভাবি পুতুল (৩৫), পুতুলের ছেলে আলিফ (১২), বরের বোন ঐশী (৩০), ঐশীর স্বামী সামিউল, আব্দুল্লাহ সানি (১২), দেড় বছরের শিশু ইরাম ও মাইক্রোবাসের চালক নাঈম (৪০)।

নিহতদের সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী বলেই নিশ্চিত করেছেন, বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আহমেদ। নিহতদের মধ্যে ১০ জনের লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. মেহনাজ মোশাররফ। এ ছাড়া নিহত বাকি চারজনের লাশ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছে। এদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী। গুরুতর আহত আরেকজন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুঘর্টনার বিবরণে জানা গেছে যে, বরযাত্রীরা বিয়ের পর মাইক্রোবাসে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রাম থেকে নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতুকে নিয়ে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শ্যাওলাবুনিয়া গ্রামে বরের বাড়িতে ফিরছিলেন।
পথিমধ্যে রামপাল উপজেলার খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজের কাছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল ৪টার দিকে মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর বাসটি বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সম্পর্কে খুলনা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়া বলেন, দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জনের লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও বাকি ৪ জনের লাশ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছে।
এ ছাড়া একজন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আহত কয়েকজনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের এখানে আটজনের মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী ও দুজন পুরুষ। এ ছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি থাকা আরও একজন পরে মারা গেছেন।’ Ref: banglanews24/ saradesh