
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ দুটি ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন দেড় সহস্রাধিক মানুষ। লাতিন আমেরিকার এই দেশটির চরম বিপর্যয়ের পর উদ্ধারকাজে গতি আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত এগিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আটকা পড়া জীবিত মানুষদের উদ্ধারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে দ্রুত গতিতে আসছে উদ্ধারকারী দল, বিশেষজ্ঞ ও বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের স্বীকৃত উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খোঁজে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে নেমেছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলা ওয়াশিংটনের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এই সংকটকালীন সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাকে ‘নতুন ও মহান বন্ধু’ উল্লেখ করে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই দুর্যোগ মোকাবেলায় একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আশ্বাস দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ১৫ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে দুটি যুদ্ধজাহাজ, পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠানো হচ্ছে।
ইউরোপের দেশগুলোর পক্ষ থেকেও দ্রুত সাড়া পাওয়া গেছে। তুরস্ক সামরিক বিমানে করে ৬৭ সদস্যের উদ্ধার ও চিকিৎসাকর্মী, উদ্ধারযান ও স্নিফার ডগ পাঠিয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে স্পেন সবার আগে সহায়তার হাত বাড়ায়। বর্তমানে স্পেন ও ফ্রান্স থেকে কয়েক ডজন বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকর্মী কারাকাসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এছাড়া জার্মানি ৬টি সামরিক পরিবহন বিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে এবং সুইজারল্যান্ড ৮০ জন উদ্ধারকর্মী ও ১৮ টন সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। নেদারল্যান্ডস সরকার উদ্ধারকাজের জন্য ২০ লাখ ইউরো বরাদ্দ করেছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউইউ) তাদের স্যাটেলাইট নজরদারি ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।
এদিকে লাতিন আমেরিকার প্রতিবেশী দেশগুলোও ভ্রাতৃত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কলম্বিয়া নিজে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলেও প্রতিবেশী দেশের জন্য ৬০ জন উদ্ধারকর্মী ও ১২ টন ত্রাণ পাঠাচ্ছে। ব্রাজিল একটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল ও ৩৬ জন দমকলকর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মেক্সিকো, এল সালভাদর এবং চিলি বিপুল পরিমাণ উদ্ধারকর্মী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ওষুধ পাঠাচ্ছে। এছাড়া কিউবার চিকিৎসাকর্মীরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত আছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এবং ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি নিজ নিজ দেশের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সাহায্য ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ও ধর্মীয় সংস্থাও এই মানবিক সংকটে এগিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশন (আইএফআরসি) জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য ২৫ লাখ মার্কিন ডলার অবমুক্ত করেছে। ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে পোপ চতুর্দশ লিও জরুরি সহায়তা হিসেবে ১ লাখ ইউরো পাঠিয়েছেন। উল্লেখ্য, ভূমিকম্পের তীব্রতায় ফ্রান্সের কারাকাসস্থ দূতাবাস আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যুদ্ধাবস্থায় থাকা রাশিয়া ও ইউক্রেনসহ জাপান, ইতালি ও আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলো এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেছে।