
নিজস্ব প্রতিনিধি\ কুমিল্লা নগরীতে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করে আসা ভ্রাম্যমাণ হকারদের কাছে ভবনের পার্কিং ভাড়া দিলে ওই ভবনের হোল্ডিং নম্বর জব্দ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
গত রোববার (২৮শে জুন) নগরীর রাণির বাজার এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। এসময় ওই এলাকার এক ভবনের পার্কিং থেকে ভ্রাম্যমাণ হকারদের ৩০টি ভ্যান উদ্ধারের পর ওই ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেযার কথা জানান প্রশাসক। এসময় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নজরুল এভিনিউয়ের নুরুল আমিন টাওয়ারের কেয়ারটেকার ও দারোয়ান মিলে প্রতি ভ্যান এক হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে হকারদের দিয়ে ব্যবসা করিয়ে আসছেন। এর সঙ্গে ভবন মালিকেরও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ওই ভবনের হোল্ডিং নাম্বার জব্দ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে বলে জানান প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। অভিযানে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুন, সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, চলমান উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে কুমিল্লা নগরীর রানিরবাজার থেকে কান্দিরপাড় পর্যন্ত অবৈধ ফুটপাত দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই সময় এভিনিউতে নুরুল আমিন টাওয়ার নামে একটি ভবনের পার্কিং থেকে অন্তত ৩০টি ভ্যান জব্দ করা হয় এবং সেগুলোকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বিনষ্ট করা হয়েছে। এছাড়াও সড়কের পাশে বিভিন্ন ভবনের নিচ থেকে জন ভোগান্তি সৃষ্টিকারী হকারদের ভ্যান জব্দ করে সেগুলো বিনষ্ট করা হয়েছে।
প্রশাসক বলেন, আমরা কারো ক্ষতি করতে চাই না। কিন্তু কেউ যদি আইন অমান্য করে জন ভোগান্তি সৃষ্টি করে, সে ক্ষেত্রে আমরা কোন উদারতা দেখাবো না; ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন জানান, অবৈধভাবে ফুটপাত দখলকারীদের আশ্রয় দিয়ে ওই ভবন মালিকও প্রচলিত আইনে অপরাধ করেছেন। আমরা হকারদের আশ্রয় দেয়া ওই ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে হকার অবস্থান নিবে সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আইনের আওতায় আনা হবে। কুমিল্লা নগরীর যানজট নিরসনে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা ২ শতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৫শে জুন) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
এ সময় সিটি করপোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া রহমান, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, শুরুতে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় যানবাহন চলাকালে বিঘœ ঘটায় সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধভাবে স্থাপিত দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়। পরে নগরীর লির্বাটি মোড়, মনোহরপুর, রাজগঞ্জ এলাকায় অভিযানে ভ্রাম্যমান দোকান পাট ও ভ্যান ভেঙে ফেলা হয়।
ফুটপাতে আম বিক্রেতা শাহ জালাল বলেন, আমার মা ধার করে টাকা দিছে আম বিক্রি করতে। আমি একটি ভ্যান ভাড়া করে ফুটপাতে আম বিক্রি করছিলাম। আমার আমগুলো মাটিতে ফেলে ভ্যানটা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই কথা বলে তিনি কাঁদতে থাকেন।
অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত ও সড়কে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলার কোনো অবস্থা নেই, দীর্ঘদিন হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হবে এবং নগরীর পরিবেশও উন্নত হবে।
প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, যেকোনো মূল্যে নগরীর যানজট নিরসন করা হবে। আমরা গত ২ মাস ধরে ফুটপাত অবমুক্ত রাখার জন্য প্রচারণা চালিয়েছি। অনেকে কথা শুনেছেন আবার অনেকে শুনেননি। যারা শুনেননি তাদের অবৈধ সব স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়েছে। নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা, সাধারণ মানুষের নির্বিঘœ চলাচল নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।