১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম কমল ৩৫৭ টাকা

ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারে স্বস্তি ফিরেছে। নতুন করে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ২৯ টাকা ৭৬ পয়সা কমানো হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৫৭ টাকা কমে এখন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা। গত মাসেও ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমানো হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন মূল্য ঘোষণা করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির মূল্য কয়েক মাস আগে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল। এর প্রভাবে দেশের বাজারেও রেকর্ড পরিমাণ মূল্য বৃদ্ধি দেখা যায়। গত এপ্রিলে প্রথম দফায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়। পরে একই মাসের ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়ানো হলে সিলিন্ডারের মূল্য দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকা, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এরপর মে মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমতে শুরু করে। এর প্রভাবে জুন মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এবার সেই ধারাবাহিকতায় আরও বড় ধরনের মূল্য হ্রাসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিইআরসি জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি কেজি এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগে ছিল ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা। বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ওজনের সিলিন্ডারের দাম এই নতুন কেজি দরের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে।

প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ করে বিইআরসি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে অনেক বিক্রেতা ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করছেন, যা ভোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রেখে ৮২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া যানবাহনে ব্যবহৃত অটো গ্যাসের নতুন মূল্য প্রতি লিটার ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে দেশে এলপিজির মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করছে বিইআরসি। এলপিজির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে সৌদি আরবের আরামকো প্রতিষ্ঠান এসব উপাদানের আন্তর্জাতিক মূল্য বা সৌদি কার্গো প্রাইস (সিপি) প্রকাশ করে। সেই সিপিকে ভিত্তি ধরে এবং আমদানিকারকদের চালানমূল্য ও ডলারের গড় বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে দেশে এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *