চার লেনের সুফল থেকে বঞ্চিতঃ যানজটে নষ্ট হচ্ছে সময় কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লাকসাম ও লালমাইয়ের ৮ কিলোমিটার যাত্রীদের গলার কাঁটা

          

    তোফায়েল আহমেদ\ রাজনৈতিক প্রভাব, দখলদারদের মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দীর্ঘ ৬ বছরেও সম্পন্ন হয়নি কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ। মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার লাকসাম, বাগমারা, শানিচোঁ ও কাকসার মৌজায় মাত্র ৮ কিলোমিটার অসম্পন্ন কাজের কারনে দীর্ঘ যানজটে একদিকে জনগনের ভোগান্তি অন্যদিকে, অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। বাড়ছে যাত্রা সময় ও ব্যয়। এতে যানজটের নিত্য ভোগান্তির শিকার কুমিল্লা দক্ষিণ, নোয়াখালী ও ল²ীপুরের যাত্রীরা। ৫৯ কিলোমিটার এই মহাসড়কের চার লেনের সুফল থেকে বঞ্চিত রয়েছে জনগন।

              জানা গেছে, কুমিল্লা শহরের টমছম ব্রিজ থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কটি ২০১৮ সালে ২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তÍু নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় ২০২৩ সালের জুন মাসে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। অথচ, ৬ বছরে দুই দফায় বরাদ্দ ও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ। ৫৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কটির ৮ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ না করেই গত বছরের জুনে প্রকল্পের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

              মহাসড়কের বাগমারা বাজারের ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়কের যানজট যাত্রীদের নিত্যসঙ্গী। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় রাজনৈতিক প্রভাব এবং দখলদারদের মামলায় এ যানজট এবং সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ঝুলে থাকার মূল কারণ। যে কারণে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পের ৮ কিলোমিটার সড়ক এখন যাত্রীসাধারণের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

              সরেজমিন লাকসাম বাইপাস ও বাগমারা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সরু সড়কের ওপরে ব্যবসায়ীরা দোকান পেতে বসে আছে। রয়েছে অবৈধ অটোরিকশার স্ট্যান্ড। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সড়ক লাগোয়া। সেখানে বড় পরিবহন চলতে বাধার সম্মুখীন হয়। সড়ক সংলগ্নে রয়েছে বিদ্যুতের খুঁটিও।

              বাসযাত্রী আবুল কালাম বলেন, ফোর লেনের নোয়াখালী অংশে মহাসড়কের পাশে অনেক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে সেখানে যাতায়াতের গতি বেড়েছে। কিন্তÍু লাকসাম ও বাগমারা অংশে প্রতিক্ষনেই যানজট লেগেই থাকছে। এতে ব্যবসায়ীরাসহ পরিবহন মালিক, যাত্রী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দুর্ঘটনায় মানুষ নিহত ও আহত হচ্ছেন।

              ভূমি মালিকদের দাবি, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ঝুলে আছে প্রকল্পের কাজ। নির্ধারিত মূল্যে সরকারকে জমি দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও অবৈধ দখলদারদের মামলায় অধিগ্রহণ জটিলতা ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। তবে সড়ক বিভাগ বলছে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করতে মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি অধিগ্রহণে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দ্রæতই কাজ শুরু করা হবে।

              সড়ক ও জনপদ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা  বলেন, ‘জমি অধিগ্রহনের টাকা বরাদ্দ চেয়ে আমরা ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। মন্ত্রনালয় থেকে টাকা অনুমোদন পেলেই অধিগ্রহন শেষে অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করা যাবে।’

              এ ব্যাপারে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিজ্্ রোজী আকতার বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা আশা করছি খুব দ্রæত অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। অধিগ্রহণ শেষ করেই রাস্তার কাজ শেষ করতে পারবো।’

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *