👁 402 Views

ঠান্ডাজনিত রোগে হাসপাতালে শিশু ও বৃদ্ধদের ভিড়

            ষ্টাফ রিপোর্টার\ কুমিল্লায় শীত বেড়ে যাওয়ায় শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতেও রোগীর ভিড় বাড়ছে। গত সোমবার (৬ই জানুয়ারি) কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। উপজেলা হাসপাতালেও একই চিত্র। রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসকেরা হিমশিম খাচ্ছেন।

            কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক নবজাতক ও শিশু ভর্তি রয়েছে। এ সব শিশুর মধ্যে কেউ কাশি, কেউ নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। নবজাতকদের অবস্থা গুরুতর।

            রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি ৫০০ বেডের এ হাসপাতালের বহির্বিভাগ, মেডিসিন ও শিশু বিভাগে। ৪০ বেডের শিশু ওয়ার্ডে ঠান্ডা ছাড়াও শিশুরোগ নিয়ে দ্বিগুণ রোগী ভর্তি আছে। একই অবস্থা হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডেও। বেড সংকটে রোগীদের বারান্দা এবং ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। একে তো রোগীর চাপ, তার উপর শিশু রোগীর সঙ্গে স্বজনদের ভিড় থাকায় সমস্যা প্রকট হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের তীব্রতায় এ সময় শিশু ও বয়স্কদের জ্বর, নিউমোনিয়া, সাইনাস, টনসিলাইটিস, এ্যাজমা, এলার্জিজনিত সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। শিশুরা সাধারণ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে হাসপাতালে আসছে।

            হাসপাতালে আসা শিশু আবু রায়হানের মা রিতা আক্তার বলেন, ‘‘স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ালেও অবস্থার অবনতি দেখে দ্রæত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন। হাসপাতালে প্রয়োজীয় চিকিৎসা পাওয়ায় বর্তমানে সুস্থতার দিকে। তবে রোগীর চাপের কারণে বেড না পাওয়ায় ফ্লোরে কাটাতে হচ্ছে।’’

            আবুল বাশার নামে আরেক রোগী বলেন, ‘‘শীতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হয়েছি। জ্বর, সর্দি, কাশি থেকে আমার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। আমি এ্যাজমা রোগে আক্রান্ত ছিলাম জানতাম না। এ্যাজমা থাকায় ঠান্ডা রোগগুলো থেকে সুস্থ হচ্ছিলাম না।’’

            এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগের প্রধান ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, ‘‘শীতের সময় শিশুদের ঠান্ডা লাগানো যাবে না। প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের ঘরের বাইরে না নেওয়া ভালো। ঠান্ডা খাবার খাবে না, উষ্ণ পানিতে গোসল দিতে হবে এবং শিশুদের বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।’’

            তিনি আরো বলেন, ‘‘শীতের এই সময়টাতে বাইরে ধুলাবালি বেশি থাকে, ফলে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, তারা দ্রæত রোগাক্রান্ত হয়। ফলে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের সতর্ক থাকতে হবে।’’ পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিকর খাবার এবং উষ্ণ রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *