খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ তরুন সমাজ

            এ বি এম আতিকুর রহমান বাশার\  রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে কুমিল্লার দেবীদ্বার এসএ সরকারি কলেজের মাঠ। প্রায় সারা বছর মাঠটিতে পানি জমে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এতে খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় তরুণরা।

            স্থানীয় সূত্র জানায়, দেবীদ্বার এসএ সরকারি কলেজ মাঠেই একসময় অনুষ্ঠিত হতো কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আন্তঃকলেজ ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও বিভিন্ন জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান।

            গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের আগমনে এই মাঠ ব্যবহৃত হতো হেলিপ্যাড হিসেবেও। কিন্তু বর্তমানে মাঠের ভগ্নদশা দেখে হতাশ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। মাঠটি সড়কের তুলনায় নিচু ও এর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় সারা বছরই সেখানে পানি জমে থাকে। নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে গজিয়ে উঠেছে ঘাসের জঙ্গল, চারদিকে ছড়িয়ে আছে আবর্জনা।

            কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাব্বি হোসেন বলেন, যে মাঠে একসময় বিকেলে খেলতাম, এখন সেখানে নামতে ভয় লাগে। চারপাশে কাদা-পানি, দুর্গন্ধে খেলাধুলা তো দূরের কথা, হাঁটাও কষ্টকর।

            শিক্ষকদের মতে, মাঠ রক্ষণাবেক্ষণে বাজেট বরাদ্দ অপ্রতুল, ফলে দীর্ঘদিন কোনো বড় ক্রীড়া অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও সহশিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

            স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দেবীদ্বার উপজেলার সবচেয়ে পুরনো এই কলেজ শুধু শিক্ষার কেন্দ্র নয়; সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেরও প্রাণকেন্দ্র। মাঠের এই দূরাবস্থা অবস্থা কলেজের ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।

            দেবীদ্বার উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. ময়নাল হোসেন বলেন, মাঠটি উপজেলা পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্যও ব্যবহার করা যেত। কিন্তু সংস্কারের অভাবে এখন বিকল্প মাঠ খুঁজতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনতা ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগেই দেবীদ্বার এসএ সরকারি কলেজ মাঠটি আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে- এমন প্রত্যাশা দেবীদ্বারবাসীর।

            কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আহসান পারভেজ খোকন বলেন, আমি এই কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই কলেজের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করছি। মাঠ সংস্কার, ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নতুন মিলনায়তন নির্মাণসহ কলেজকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়েছি। মাঠ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেছি। আশা করছি শিগগিরই সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

            এ ব্যাপারে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামের মোবাইল  ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *