👁 444 Views

অবশেষে সচিবালয়ের আগুন ৫ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে

বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে গভীর রাতে লাগা আগুন অবশেষে ৫ ঘন্টা পরে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সচিবালয়ের সামনে ব্রিফিংয়ে এসে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, “রাত ১টা ৫২ মিনিটে আমরা মেসেজ পাই সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুন লেগেছে। ১টা ৫৪ মিনিটের মধ্যে আমাদের ইউনিট পৌঁছে যায়। এ পর্যন্ত এখানে ১৯টি ইউনিট নিয়োজিত করা হয়েছে।” তবে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো ঢোকাতে না পারায় কাজে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
ডিজি জাহেদ কামাল বলেন, “সামনের গেইট ভেঙে দুটো গাড়ি ঢুকিয়েছি। এই মুহূর্তে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। ৬, ৭, ৮, ৯ এই চারটি তলায় আগুন ধরেছে। আমরা আশা করছি, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আগুন নেভানোর কাজ শেষ হবে।” বুধবার দিবাগত রাতে আগুন লাগার পর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো সচিবালয় এলাকা। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরাও পরে আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেন।
অগ্নি নির্বাপণের কাজে পানির লাইন দিতে গিয়ে সচিবালয়ের সামনের রাস্তায় ট্রাক চাপায় আহন হন মো. সোহানুর জামান নয়ন নামের একজন ফায়ার ফাইটার।
আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয় বলে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি জানান।
গভীর রাতে ‘ভয়াবহ’ এ আগুন লাগার পর সচিবালয় এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। রাতেই সেখানে ২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয় বলে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন।
আগুন লাগার পরপরই জিপিও থেকে শিক্ষা ভবন পর্যন্ত সচিবালয়ের সামনের রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শাহবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা সচিবালয়ের সামনে দুই পাশের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি। ফায়ার সার্ভিস ও আইশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া অন্য সব গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।”
সচিবালয়ের যে ভবনে আগুন লেগেছে, তার ১০টি তলায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অফিস রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ; পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ; যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দপ্তর রয়েছে সেখানে।
রাতে ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের কলাপসিবল গেইট কেটে ভেতরে ঢুকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। ভবনের সিঁড়িতে হোস পাইপ থেকে ছোড়া পানির স্রোত বইছে।
অতঃপর, সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, “বর্তমানে ফায়ার ফাইটাররা দালানের ভেতরে কাজ করছে। প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করে আগুন নেভাচ্ছে। নেভানোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। এ পর্যন্ত ২১১ জন জনবল কাজে নিয়োজিত হয়েছে।”
আগুন লাগার পর রাতে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা শুরু হয়। রাষ্ট্রের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় গভীর রাতে আগুন লাগার কারণ নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন সন্দেহের কথা বলেছেন। আগের সরকারের ‘দুর্নীতির প্রমাণ নষ্ট করতে’ আগুন লাগানো হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন কেউ কেউ।
সকালের ব্রিফিংয়ে আগুন লাগার কারণ জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) বলেন, “আগুন লাগার কারণ সম্ভবত ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন ছিল। এক জায়গা আগুন ধরলে বিদ্যুৎ লাইনের মাধ্যমে সব জায়গা ছড়িয়ে পড়ে। এটা হতে পারে।
“কিন্তু প্রাথমিক কারণ এখনও আমরা বের করতে পারিনি। আগুন নেভানোর পর আমরা যখন সব জায়গা তল্লাশি করব, তখন আপনাদেরকে বলতে পারব।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, তিনটি জায়গায় একসাথে আগুন দেখা গেছে। যখন স্পার্কিং হয়, যদি বিদ্যুৎ লাইনের শর্টসার্কিট হয়, এটা হতে পারে। তবে আমরা এটা এখনও নিশ্চিত বলব না। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা তদন্ত শেষ করছি। কিন্তু এটা হতে পারে। এটা হয়েছে আমরা বলব না। যদি শর্ট সার্কিটের বিষয় থেকে থাকে, যদি একই লাইন হয়ে থাকে, তাহলে এটা হতে পারে।”
এক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, তারা তখনো জানতে পারেননি যে, ভবনের ভেতরে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা! Courtesy: bangla.bdnews24.

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *