👁 198 Views

আবারো করোনার হানা

            এস এম রেদোয়ানুল হাসান রায়হান\ কিছুদিন আগেও মনে হচ্ছিল, হয়তো করোনা মহামারি পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে। জনজীবন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে, স্কুল-কলেজ-অফিস আবার সরব, সামাজিক অনুষ্ঠানেও নেই আগের মতো ভয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আবারও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে কিছু দেশে নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশেও কিছু কিছু এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন জনসচেতনতা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা। করোনার এই নতুন ঢেউ শুরু হয়েছে একটি নতুন রূপ নিয়ে। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, পুরনো উপসর্গগুলোর পাশাপাশি নতুন কিছু উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, যা সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো মনে হলেও মারাত্মক পরিণতির দিকে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার এই ধরনটি তুলনামূলকভাবে দ্রæত সংক্রমণ ঘটাতে পারে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে লক্ষণ তুলনামূলকভাবে মৃদু। কিন্তু দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি, বয়স্ক এবং শিশুদের জন্য এটি আবারও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

            ২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত করোনা বিশ্ববাসীকে যেভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল, তাতে আমরা শিখেছি সতর্কতা অবলম্বনই একমাত্র উপায়। শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর ভরসা করলে হবে না। কারণ এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই মূলত ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতার মাধ্যমেই জয় করা সম্ভব। মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোয়া, ভিড় এড়িয়ে চলা এবং অসুস্থ হলে ঘরে থাকা এসব বিষয় আমরা আগেও মানতাম, এখন আবারও এগুলো অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতকে প্রস্তুত রাখতে হবে আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে। হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ, পর্যাপ্ত আইসিইউ ও সাধারণ বেড প্রস্তুত রাখা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সেইসঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ রাখা এবং প্রয়োজনে আবারও টেস্টের সংখ্যা বাড়ানো দরকার। করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, বিশ্বের অনেক অঞ্চলে টিকা গ্রহণ কমে গেছে এবং মানুষ এখন নিয়ম মানতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এই অবহেলার সুযোগে ভাইরাস নতুন করে ছড়াতে পারে। আমাদের দেশেও টিকার বুস্টার ডোজ নেয়া থেকে অনেকেই বিরত থাকছেন। অথচ এটি নেওয়া মানেই প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানো। তাই নতুন করে টিকাদান কর্মসূচি সচল করা এবং মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা জরুরি। এখন সময় দায়িত্বশীল আচরণের। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব মহলকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে। যে যার অবস্থানে রয়েছেন, তাকে তার দায়িত্বটুকু পালন করতে হবে। প্রশাসনের দায়িত্ব যেমন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, তেমনি নাগরিকের দায়িত্ব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

            সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা। ভুল তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে মানুষকে ভয় দেখানো যাবে না। বরং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। করোনা আমাদের শিখিয়েছে, স্বাস্থ্যই আসল সম্পদ। তাই এই নতুন হানার সময় আবারও একসঙ্গে, সমন্বিতভাবে কাজ করাটাই হতে পারে ভাইরাসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *