এইচএসসি পরীক্ষা: পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর, চার মডারেটরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

চলতি উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশে ভুল থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভুলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের ওই নির্দিষ্ট প্রশ্নের বিপরীতে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রশ্নপত্র পরিশোধনের (মডারেশন) দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে।

গত সোমবার সারা দেশে (স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম অঞ্চল বাদে) এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের তত্ত্বীয় অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে বড় ধরনের অসঙ্গতি ও ভুল ধরা পড়ে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হলে বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়।

জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, পদার্থবিজ্ঞানের ভুল হওয়া ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পুরো নম্বর দেওয়া হবে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে শিক্ষার্থীবান্ধব যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। বন্যার কারণে স্থগিত থাকা চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা যখন নেওয়া হবে, তখন প্রয়োজনে এই পরীক্ষাগুলোও পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন মন্ত্রী।

এদিকে প্রশ্নপত্র মডারেশনে গাফিলতির অভিযোগে চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মডারেশনের দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। শোকজ পাওয়া শিক্ষকেরা হলেন—শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক কাজী জুনায়েদ আল আমিন, এমসি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোছাদ্দেক হোসেন খান এবং সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

অন্যদিকে, পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও করোনা-পরবর্তী শিখন ঘাটতির কারণে সাধারণ প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়া সত্ত্বেও প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন করা হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। তবে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছেন, প্রশ্ন সম্পূর্ণ সিলেবাস এবং মূল বই অনুসারেই করা হয়েছে; গাইড বইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে কিছু শিক্ষার্থীর কাছে প্রশ্ন কঠিন মনে হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দেশজুড়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *