
ক্রীড়া প্রতিবেদক: তারকাখচিত ফ্রান্সকে মাঠের ফুটবলে কোনো সুযোগ না দিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স কিংবা বড় নামের পেছনে না ছুটে, নিটোল দলগত ফুটবল ও মাঠের চমৎকার সমন্বয়ের ওপর ভর করেই বিশ্বমঞ্চের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পা রাখল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শক্তিশালী ফরাসিদের ২-০ গোলে হারিয়ে এই টিকিট কাটে ২০১০ সালের শিরোপাজয়ীরা।
কাগজে-কলমে কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা উসমান দেম্বেলেদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া ফ্রান্স হয়তো স্পেনের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তবে মাঠের লড়াইয়ে লা রোহাদের টিম গেম ও পজিশনভিত্তিক ফুটবল সব হিসেব উল্টে দেয়। প্রতিটি পজিশনে স্প্যানিশ ফুটবলারদের নিখুঁত অবস্থান ও ক্ষিপ্র গতির সামনে ফরাসিদের ব্যক্তিগত আক্রমণগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে।
ম্যাচে স্পেনের জয়ের অন্যতম রূপকার ছিলেন টটেনহাম ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো। রক্ষণে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পাশাপাশি দ্বিতীয়ার্ধে দলের হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করা জয়সূচক গোলটিও আসে তাঁর পা থেকে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এই আসরের আগে কোনো গোল না থাকা ২৬ বছর বয়সী পোরো চলমান বিশ্বকাপেই করলেন নিজের দ্বিতীয় গোল।
ম্যাচ শেষে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পোরো বলেন, “বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল, যা আজ সত্যি হলো। দলের এই পারফরম্যান্সে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ফ্রান্সের মতো ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গা ছিল কাউন্টার অ্যাটাক, আমরা শুরু থেকেই বলের দখল রেখে তাদের সেই ছক ভেস্তে দিতে পেরেছি।”
দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “এটি কোনো একক ব্যক্তির জয় নয়। স্কোয়াডের ২৬ জন খেলোয়াড়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আজ এখানে পৌঁছেছি। ম্যাচ শেষে আমি পুরোপুরি ক্লান্ত, তবে ফাইনালে মাঠে নামার আগে বিশ্রাম নিয়ে আবারও নিজেদের শতভাগ উজার করে দেব।”
ফরাসিদের গতিময় আক্রমণভাগের বিপক্ষে স্পেনের এমন সুশৃঙ্খল রক্ষণ ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বজয়ের দোড়গোড়ায় থাকা স্পেন এখন ফাইনালের মহারণের অপেক্ষায়।