👁 405 Views

চান্দিনার ক্ষীরদ খাল পৌরবাসীর গলার কাঁটা

            আকিবুল ইসলাম হারেছ\ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন খুবই জমজমাট চান্দিনা বাজার। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে এ এলাকাটি। বাজারের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ক্ষীরদ খাল। চান্দিনা পৌরসভার আরেকটি খাল হচ্ছে চান্দিনা-ছায়কোট খাল। এ খালটি আবর্জনায় ভরা। পৌরসভার বাইরের খালগুলোর অবস্থা আরও ভয়ানক। মাধাইয়া পশ্চিম বাজার সংলগ্ন খালও আবর্জনার স্তুূপে পরিণত হয়েছে। পলিথিন আর ময়লা আবর্জনার কারণে খালগুলো চেনাই যায় না।

            সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের উত্তর-পশ্চিম কোন থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ময়লা-আবর্জনায় ভরা। যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে বাজারের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিপূর্ণ থাকায় পানি সরতে পারছে না। খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার রাখতে সাবেক পৌর মেয়র ও বর্তমান পৌর প্রশাসকের কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

            ওই খাল দখল করে মার্কেট ও হোটেল নির্মাণ করা হয়েছে। পানি প্রবাহের কোনো পথ নেই। যার কারণে পাশেই অবস্থিত আল-আমিন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। একটু বৃষ্টি হলেই মাদ্রাসা মাঠ পানিতে ডুবে যায়। খাল দখল ও ভরাটের কারণে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে।

            স্থানীয়রা জানান, খালটির দেড় কিলোমিটার অংশ পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সওজ ও পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলাভুক্ত। এই জটিল সমীকরণে কোনো পক্ষ এগিয়ে আসছে না। খালটি দখল, দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এ খালই এখন চান্দিনা পৌরসভার বাসিন্দাদের সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি এ শহরের বিশাল জনগোষ্ঠীর আবর্জনার ভার বয়ে বেড়ানো অনেক খাল ধুঁকে ধুঁকে অনেকটাই নিঃশেষ হয়ে গেছে। আর এ নিষ্ঠুর পরিণতি পোহাতে হচ্ছে শহরের সাধারণ বাসিন্দাদের।

            চান্দিনা পৌরসভার আরেকটি খাল হচ্ছে চান্দিনা-ছায়কোট খাল। এ খালটিও আবর্জনায় ভরা। যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেও পানি সরে না। একটু বৃষ্টিতেই আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। পলিথিন, খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল আর ফলের পরিত্যক্ত ঝুড়িতে ভরপুর এই খাল। সঙ্গে গৃহস্থালি বর্জ্যের স্তূপ। দূর থেকে দেখলে একে খাল ভাবা মুশকিল। ফলে পানি নিষ্কাশনের এ খালটি অনেকের কাছে মশা উৎপাদনের ‘কারখানা’ হিসেবে পরিচিত। মশার উৎপাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

            স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের জানান, এ খাল দিয়ে একসময় এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাষন হতো। কিন্তু তা এখন ময়লার ভাগাড়। তবে সম্প্রতি এ খালটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, এটির সংস্কার শেষ হলে এ এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকবে না।

            কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (অ. দা.) মো. আশ্রাফুজ্জামান খান ও প্রকৌশলী মাহিউদ্দিন জানান, চান্দিনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড তালিকাভুক্ত কোনো খাল নেই। ম্যাপ দেখে দখলকৃত খালগুলো উদ্ধার ও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া খালগুলো খনন কাজ করা হবে।

            জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী (সাধারণ শাখা) কিশোর কুমার দেবরায় জানান, আমরা ৩০ বছরের জন্য খাল বাদ দিয়ে পাড় লিজ দিয়েছি। কেউ যদি খাল ভরাট করে দখল করে থাকে, সেটা ঠিক করেনি।

            চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, চান্দিনা বাজারের পশ্চিম পাশের খালটি পুরোটা আমাদের নয়। কয়েকটি পক্ষ (পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সওজ, দেবিদ্বার অংশ) জড়িত। সবাইকে বলেছি। এখন একটি সমন্বিত মিটিং হতে হবে। যার যতটুকু অংশ আছে খনন করে দেবে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *