
আবদুল মান্নান\ সংস্কারের অভাবে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ৩০টি সড়ক বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এসব সড়কের প্রায় ৭৭ কিলোমিটারজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কগুলোর কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার পানিতে এসব গর্ত আরো ভয়াবহ রূপ ধারন করে। তখন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই যানবাহন বিকল হয়, ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। পাশাপাশি যাতায়াতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয় এবং নষ্ট হয় মানুষের কর্মঘণ্টা। সংস্কারের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ সড়ক লাটিমি-আলকরা ৩ কিলোমিটার, ভাজনকরা-ভোড়নকরা ৩ কিলোমিটার, ফাঁসি বটগাছ-চৌধুরী বাজার ৪ কিলোমিটার, কাঁকৈরখোলা-হাটবাইর ২ কিলোমিটার, জগন্নাথদীঘি-সোনাপুর ৩ কিলোমিটার, ঘোষতল-জিনিদকরা ২ কিলোমিটার, চিওড়া রাস্তার মাথা-ধোড়করা বাজার ৩ কিলোমিটার, সুজাতপুর-কাজী জাফর আহমেদের বাড়ি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার, রামপুর-পাত্রড্ডা বাজার ২ কিলোমিটারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের অসংখ্য গর্তে বৃষ্টির পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব সড়ক দিয়ে মালবাহী ট্রাক-ট্রাক্টর, পিকআপ, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ৩ থেকে ৪ বছর ধরে উপজেলার অনেক সড়ক এমন অবস্থায় রয়েছে। কোনো কোনো সড়ক প্রায় ১০ বছরেও সংস্কার করা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রæত সড়কগুলো সংস্কার করা না হলে জনদুর্ভোগ আরো বাড়বে। এলজিইডির পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও দৃশ্যমান সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মধ্যে ৮টি সড়ক সংস্কারের জন্য ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে জিওবি বরাদ্দ চেয়ে জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে এসব সড়কের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সড়কের সংস্কারের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে।