২০৫০ সালের মধ্যে আরো ২০% কৃষি জমি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশংকা

             

নিজামুল হক\ দিনের পর দিন  খেয়াল-খুশীমতো নতুন নতুন বাড়ী-ঘর নির্মান অব্যাহত থাকার কারনে ফসল উৎপাদনের কৃষি জমি প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ভরসা কৃষিজমি। কিন্তু সেই জমি দ্রæত চলে যাচ্ছে শিল্প-কারখানা, বসতি, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে।

              দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি ভরাট করে গড়ে উঠছে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বসতি। একই সঙ্গে কমছে নিচু জমি ও জলাধারও। ফলে শুধু কৃষি উৎপাদন নয়; পরিবেশ ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ছে।

              কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

              তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে দেশের মোট ভূমির ৬৭.৩৮ শতাংশ ছিল আবাদি জমি। তা কমে ২০০০ সালে ৬৪.৯৬ শতাংশ ও ২০১০ সালে ৬০.৪ শতাংশ হয়। ২০০০ সালের পর কৃষিজমি কমার গতি আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে আবাদি জমি আরো ১০ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রতিষ্ঠানটির।

              এসআরডিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত কৃষিজমি কমেছে তুলনামূলক ধীরগতিতে। বছরে গড়ে ১৩ হাজার ৪১৩ হেক্টর (০.১৪ শতাংশ) করে। তবে ২০০০ থেকে ২০১০ সময়ে বছরে গড়ে ৬৮ হাজার ৭৬০ হেক্টর (০.৭৩ শতাংশ) কৃষিজমি কমেছে। আর ১৯৭৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পুরো সময়ে প্রতিবছর গড়ে ৪২ হাজার ৬৩ হেক্টর (০.৩০ শতাংশ) আবাদি জমি হারিয়েছে বাংলাদেশ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য, দেশে বর্তমানে মোট আবাদযোগ্য জমি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার হেক্টর।

              ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসআরডিআই ৫০টি উপজেলার ভূমি ব্যবহার হালনাগাদ করেছে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় সব উপজেলাতেই কৃষিজমি কমে বসতি, শিল্প, সড়ক ও অন্যান্য অকৃষি ব্যবহারের জমি বেড়েছে। অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ, দ্রæত শিল্পায়ন, গ্রামীণ এলাকায় নতুন বসতি নির্মাণ এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণ এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ।

              কৃষিবিধদের মতে নতুন সড়ক নির্মাণ, বসতবাড়ি ও জনবসতির সম্প্রসারণের কারনে  ক্রমশঃ একদিকে কৃষি জমি কমিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, দেশে চাহিদা অনুযায়ী ফসল উৎপাদন না হওয়ায় সরকার প্রায় প্রতি বছরই বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানী করে চাহিদা পুরন করছে।

              জাতিসংঘের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০৩০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে প্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ এবং ২০৫০ সালে তা ২০ কোটির বেশি হবে। এই পরিস্থিতিতে কৃষিজমি ২০ শতাংশ কমে গেলে দেশের খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এসআরডিআইয়ের মহাপরিচালক ড. মো. আফছার আলী বলেন, জনসংখ্যা বাড়ছে। ফলে নতুন ঘরবাড়ি, শিল্প-কারখানা ও সড়ক নির্মাণের জন্য কিছু কৃষিজমি ব্যবহার হবেই। তবে এসব উন্নয়ন যেন পরিকল্পিতভাবে হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *