
ষ্টাফ রিপোর্টার\ দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫’-এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর যোগদানের তারিখ নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১লা অক্টোবর তারা নিজ নিজ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। যোগদানের পর পর্যায়ক্রমে পদায়ন এবং বাধ্যতামূলক পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দায়িত্ব দেয়া হবে।
গত রোববার (২রা আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শূন্য পদের বিপরীতে নির্বাচিত প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। এরপর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যোগদান শেষে প্রশাসনিক প্রয়োজন ও শূন্য পদের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে। পদায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তত্ত¡াবধানে তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, যাতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।
এর আগে গত শনিবার (১লা আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভায় সম্ভাব্য যোগদানের তারিখ হিসেবে ২৯শে অক্টোবর বিবেচনা করা হয়েছিল। সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, তদন্ত, যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে নিয়োগ কার্যক্রম কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে দ্রæত সময়ের মধ্যেই শিক্ষকরা যেন বিদ্যালয়ে যোগ দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। পরদিন প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে ১লা অক্টোবরকেই চূড়ান্ত যোগদানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার নিয়োগপ্রাপ্তদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা পর্যায়ে নিয়োগপত্র বিতরণ, যোগদান গ্রহণ, পদায়ন এবং প্রশিক্ষণ- সব কার্যক্রম ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ই জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। পরে ৮ই ফেব্রæয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। তবে লিখিত, মৌখিক ও অন্যান্য মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও যাচাই-বাছাইয়ের কারণে যোগদান বিলম্বিত হয়। এতে ক্ষুব্ধ সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা (তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আশ্বাস দেন, প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া শেষ করেই দ্রæত তাদের যোগদান নিশ্চিত করা হবে।