👁 92 Views

জরাজীর্ণ টিনের ঘরেই চলছে পাঠদান

            আহমেদ উল্লাহ॥ কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৫নং ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নের মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়টিতে জরাজীর্ণ ভবনে চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

            প্রায় চার যুগেরও বেশি সময় ধরে চলছে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম। টিনের চালার ঘরগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। জং ধরে ছিদ্র হয়ে গেছে চালের টিন। বৃষ্টি হলেই শ্রেণীকক্ষে পানি পড়ে, কাদা পানিতে একাকার হয়ে যায় শ্রেণীকক্ষের মেজে। এতে করে দুর্ভোগে পড়ে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।

            সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা স্কুলের সামনে সমাবেশের প্রস্তুতি নেয় এবং সুশৃংখল সমাবেশের শুরুতে জাতীয় সংগীত ও দেশপ্রেম মূলক শপথ বাক্য পাঠ করে।

            শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে আমাদের বই খাতা সব ভিজে যায়। কবে আমরা পাকা ঘরে বসে  ক্লাস করতে পারব? অন্য বিদ্যালয়ের মতো আমরা ফ্যানের নিচে বসে ক্লাস করতে চাই।

            বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরগঞ্জ উপজেলার ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নে ১৯৬৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বিদ্যালয়ের পাঠদান চলতে থাকে। ২০০১ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য কর্নেল আনোয়ারুল আজিমের সহযোগিতায় এখানে একটি দ্বিতল ভবন করা হয়। তারপর থেকে এখানে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বিদ্যালয়ে ৯ জন শিক্ষক শিক্ষিকা ও প্রায় ৪০০ জনের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে।  শূন্য পদ রয়েছে ৪টি। স্মার্ট  মেধাবী শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এখানে প্রতিবছর ভালো রেজাল্ট করে আসছে শিক্ষার্থীরা।

            নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন এক শিক্ষার্থী জানায়, আমি বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছি দীর্ঘদিনও বিদ্যালয়ে কোন উন্নয়ন করা হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অযোগ্য লোকদেরকে নিয়ে পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলেই দুর্ভোগ কাটেনি।

            বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু নছর মোহাম্মদ সালেহ আহমদ জানান, আমরা বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠদান করে যাচ্ছি। শ্রেণিকক্ষের অভাবে আমরা সবগুলো ক্লাস নিয়মিত নিতে পারছি না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি আমাদেরকে একটি বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *