👁 176 Views

দুর্দিন যাচ্ছে বাঁশ-বেতশিল্প কারিগরদের

            ষ্টাফ রিপোর্টার\ প্রযুক্তি পরিবর্তনের  কারনে বিলুপ্ত হতে চলেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বাঁশ-বেতশিল্প। এর স্থান দখল করেছে প্ল­াস্টিক ও কাঠের তৈরি জিনিসপত্র।

এক সময় এ শিল্পের যথেষ্ট কদর থাকলেও কালের বিবর্তনে বর্তমানে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে এ শিল্পের সাথে জড়িতরা পড়েছে মহা বিপাকে। বাঁশ-বেতের তৈরি পন্য বিক্রি কমে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পাশে পালপাড়া ব্রিজ থেকে ৫০ গজ পূর্বে গোমতীর বেড়িবাঁধ ঘেঁষা নমশূদ্র পল্লী। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আড়াইওরা গ্রামে অবস্থিত এ পল্লীতে ৫ শতাধিক পরিবারের বসতি। বংশ পরম্পরায় বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করে চলে এখানকার বাসিন্দাদের সংসার। তাদের এসব পণ্য বিক্রি হয় কুমিল্লার দাউদকান্দি, হোমনা, নগরীর চকবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর বাজারে। সরাসরি পল্লীতে এসেও ব্যাপারিরা পণ্য সংগ্রহ করেন।

এ পল্লীর অন্তত এক হাজার মানুষ সম্পৃক্ত আছেন এ পেশায়। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশী নারী। প্রতিমাসে খাবার খরচ বাদে একজন কুটির শিল্পী যা আয় করেন, তা থেকে সন্তানদের লেখাপড়া, ঋণ পরিশোধ ও আনুষাঙ্গিক খরচ মেটান। মানভেদে ১২০ থেকে ২৫০ টাকা দরে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তল্লা, মুলি ও বাঁশ সংগ্রহ করেন কুটির শিল্পীরা। সেই বাঁশ প্রথমে পানিতে ভেজান, তার পর শুকান। শুকনো বাঁশ আবার ভেজানোর পর পুনরায় শুকিয়ে শুরু হয় বেত তোলা। এ বেত থেকেই বাঁশেরকুলা, খাঁচা, ওরা, ঝুঁড়ি ও ডালা তৈরি হয়। মাছ ধরার ফাঁদও তৈরি হয় বর্ষা ঋতুতে। গড়ে ১২০-১৫০ টাকা দামে বিক্রি হয় এসব পণ্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কাঁচামালের দাম ও পরিবহন খরচের কারণে এ শিল্পীরা সংকটে পড়েছেন। এ পেশায় জড়িতরা বলেন, দিন দিন বাঁশ আর বেতের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ভালো নেই কারিগররা। বর্তমানে স্বল্প দামে হাতের নাগালে প্ল­াস্টিক সামগ্রী পাওয়ায় কুটির শিল্পের চাহিদা আর তেমন নেই। তাছাড়াও দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে এ শিল্পের কাঁচামাল বাঁশ ও বেত। অনেকে ভালো পুঁজি খাটাতে না পারায় অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে চলে যাচ্ছেন বিদেশে।

এ পল্লীর সুধন চন্দ্র দাস, কালী দাস ও নিতাই চন্দ্র দাস বলেন, ‘যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আর সংসার চালানো যাচ্ছে না। বাঁশ-বেত ও অন্য সব জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলেও তৈরির পণ্যের দাম আগের তুলনায় বেশি বাড়েনি। তাই এখন আগের মতো লাভ হয় না। বাধ্য হয়ে এ পেশার পাশাপাশি অন্য কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে।’

তারা বলেন, যেখানে দু’বেলা ভাত খাওয়ার টাকাই জোগাড় করতে কষ্ট হচ্ছে, সেখানে ছেলেদের মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দেব কেমনে? এ কারণে এ পল্লীর অনেক নারী এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও পুরুষ কুটির শিল্পীর সংখ্যা দিন দিন কমছে।

তারা বলেন, এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি ঋণ সহায়তা প্রয়োজন। বিভিন্ন এনজিও থেকে সাপ্তাহিক কিস্তিতে ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া হলেও সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে জমি না থাকায় ঋণ সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও তারা অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কুমিল্লার উপমহাব্যবস্থাপক মো. মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এ পল্লী পরিদর্শন করে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের নানা সমস্যার কথা অবগত হয়েছি। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে তাদের নিবন্ধনের মাধ্যমে ঋণ সহায়তা দিবে বিসিক। এছাড়াও তাদের গ্রæপ করে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে।’

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *