👁 368 Views

দূষিত হচ্ছে পরিবেশ; ভোগান্তি পোহাচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতা শিক্ষার্থীরা

            আবদুর রহমান\ কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারের ঠিক পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ডাকাতিয়া নদী। বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলে নদীটিকে ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে।

            নদীদূষণের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের দাবি, এ অবস্থার কারণে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ক্রেতা, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এছাড়া, পরিবেশও দূষন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নদী রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রæত কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

            সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগমারা বাজারের উত্তরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সেতুর নীচে ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তুূপ। দুর্গন্ধে সেখানে দাঁড়ানোও কষ্টকর। বাজারের কয়েকশ’ দোকান, শতাধিক বসতবাড়ি ও একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা নিয়মিতভাবে নদীতে ফেলা হয়। কেউ কেউ রেললাইনের পাশেও ময়লা ফেলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাগমারা বাজার এলাকার এক তরুণ বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে দিনরাত যে যেভাবে পারছেন নদীর আধা কিলোমিটার এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। বিশেষ করে বাজারের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী, মুরগি, মাছ, মাংস ও তরকারি ব্যবসায়ীরা ময়লা বস্তায় ভরে নদীতে ফেলছেন। যখন পানি বেশি থাকে তখন এসব ময়লা ¯্রােতে ভেসে যায়। এছাড়া অনেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রেখে পরিবেশ দূষণ করছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই।

            স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জানান, নদীর পাড় ঘেঁষে শতাধিক বসতঘর আছে। নদীর পাড়ে বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়, বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাগমারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ। এ ছাড়া নদীসংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাতে হয় মুসল্লিদের।

            এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামাল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা বাধ্য হয়ে নদী ও রেললাইনের পাশে ময়লা ফেলছি। কারণ, আমাদের ময়লা ফেলার জন্য কোনো জায়গার ব্যবস্থা করে দিতে পারেনি বাজার কমিটি, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন।’

            বাজার কমিটির আহ্বায়ক ও বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন বলেন, একটি জায়গা ভাড়া নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যেখানে চার বছর ময়লা ফেলা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

            পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কুমিল্লা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, নদীদূষণ রোধে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সভায় তোলা হবে।

            তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব জানান, নদী রক্ষার দায়িত্ব পাউবোর এবং ময়লা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের।

            নদীদূষণ ঠেকাতে দ্রæত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রী খীসা। তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তদন্তে দেখা গেছে, পানি নামার নালাগুলো ময়লা দিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে।

            বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কুমিল্লার সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এভাবে নদীতে ময়লা ফেলা চলতে থাকলে পরিবেশ আরও দূষিত হবে। এখনই কঠোর পদক্ষেপ নয়া আবশ্যক।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *