👁 335 Views

ধর্ষণ, হত্যা ও নিপীড়নের মতো সহিংস ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে

            ষ্টাফ রিপোর্টার\ ধর্ষণ, হত্যা ও নিপীড়নের মতো সহিংস ঘটনার কারণে শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

            ‘শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০২৫’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পত্রিকায় প্রকাশিত ১ হাজার ৮৬৭টি নেতিবাচক সংবাদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ (১১৭০টি) সংবাদ শিশু ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত, যা যৌন ও জীবন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম ঝুঁকি নির্দেশ করে এবং শিশুদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরে।

            গত ২৮শে ডিসেম্বর রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। উন্নয়ন সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)’ ও স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্টস নেটওয়ার্ক (স্ক্যান) বাংলাদেশের সহায়তায় ‘সচেতন সংস্থা’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন।

            মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মোছা. জুলিয়া জেসমিন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রতন কুমার হালদার, ওয়াটারকিপার্স- বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল, এমজেএফ-এর ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার পাবলো নেরুদা প্রমূখ।

            অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উত্থাপন করেন, স্ক্যান সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল। প্রতিবেদনের সুপারিশে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্ব সকল রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে শিশু অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সুনির্দ্দিষ্ট অঙ্গিকার থাকতে হবে। রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে শিশুদের দূরে রাখতে কঠোর আইন ও রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তুলতে হবে। শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দ্রæত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

            শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম বলেন, আমরা একটা অস্থির সময় পার করছি। শিশুরাও অস্থিরতার মধ্যে আছি। পারিবারিক শিক্ষা শিশুদের প্রধান হলেও পরিবারের সদস্যদের দ্বারা শিশুরা নির্যাতিত হয়। নানাভাবে শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করলেও সেই কাজেরে সমন্বয় নেই। এক্ষেত্রে সকলে চাইলে শিশু একাডেমি সমন্বয়ের দায়িত্ব নিতে পারে। শিশু অধিকার নিশ্চিত করার কাজে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

            অনুষ্ঠানে এমজেএফ-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, সংবাদপত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ২০২৫ সালে শিশুরা চরম নিরাপত্তাহীনতা, সহিংসতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার শিকার হয়েছে। যদিও শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষায় কিছু সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের ইতিবাচক দিকও প্রকাশিত হয়েছে। তবে শিশুদের প্রতি সহিংসতা, বিশেষ করে যৌন শোষণ ও দূর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, ক্রমাগত উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। শিশুদের সামগ্রিক সুরক্ষার জন্য আইনের দ্রæত ও কার্যকর প্রয়োগ, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে শিশু-বান্ধব করতে হবে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *