
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র মিডিয়া সেল।
চিঠিতে আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানানো হয় এবং বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর সফলতা কামনা করা হয়।
এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ-এর অংশীদারত্ব পারস্পরিক সম্মান ও একটি অবাধ-উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের কৃষক ও শ্রমিকরা উপকৃত হবে। পাশাপাশি নিয়মিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর জন্য উচ্চমানের আমেরিকান সরঞ্জামে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
শেষাংশে দুই দেশের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয় এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের প্রতি পূর্ণ আস্থার কথাও জানানো হয়।
এর আগে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের জন্য বিএনপি ও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। দূতাবাসের এক বিবৃতিতে সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকেও ধন্যবাদ জানানো হয় এবং নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
এর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারাও তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক শক্তিগুলোর এই অভিনন্দন বার্তা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শপথ নেওয়ার পর প্রথম ভাষণে তারেক রহমান জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি দমন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।