প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন উন্নীত, পেলেন ১০ম গ্রেড


দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও আইনি জটিলতা শেষে সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড এক ধাপ বাড়িয়ে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। এর ফলে তাঁরা এখন দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা পেলেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতন শুরু হবে ১৬ হাজার টাকা থেকে, যার সর্বোচ্চ ধাপ ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা। এর আগে তাঁরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে ছিলেন, যেখানে মূল বেতন শুরু হতো ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে এবং সর্বোচ্চ ছিল ৩০ হাজার ২৩০ টাকা।
সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৫ হাজার ৫০২ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ সম্মতি দেয়। পাশাপাশি প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিও এই প্রস্তাব অনুমোদন করে। সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ১৫ ডিসেম্বর সই করা প্রজ্ঞাপনটি মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে আগে থেকেই প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডসহ দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার পদমর্যাদা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বিষয়টি দীর্ঘদিন বাস্তবায়ন হয়নি। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত ২৮ অক্টোবর রিটকারী ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড ১০মে উন্নীত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সারাদেশের সব প্রধান শিক্ষকের জন্য বেতন গ্রেড উন্নীত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হলো।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন, যেখানে মূল বেতন শুরু ১১ হাজার টাকা। তাঁরা বেতন গ্রেড ১১তম করাসহ তিন দফা দাবি জানিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১তম করার প্রস্তাবটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠিয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সারা দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে এক কোটির বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক সংখ্যা পৌনে চার লাখের বেশি। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১৬টি, যার মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩ লাখ ৫২ হাজার ২০৮ জন।
