ফ্যাটি লিভার ও ডায়াবেটিস: একে অপরের সঙ্গে কতটা সম্পর্কিত

ফ্যাটি লিভার ও ডায়াবেটিস—দুটি রোগই বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, এ দুটি সমস্যার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি অনেক বেশি, আবার ফ্যাটি লিভার থাকলেও ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শরীরে ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ না করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বি লিভারে জমে ফ্যাটি লিভারের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়, যা উভয় রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অতিরিক্ত মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস এ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে রোগটি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে লিভারে প্রদাহ, ক্ষত (ফাইব্রোসিস), এমনকি সিরোসিস পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস হৃদ্‌রোগ, কিডনি জটিলতা, চোখের সমস্যা ও স্নায়ুর ক্ষতির মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত রক্তে শর্করা ও লিভারের পরীক্ষা করানো—এই দুটি রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের লিভারের স্বাস্থ্যও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত। একইভাবে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মূল্যায়ন করাও প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো জীবনযাপনে পরিবর্তন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করলে ফ্যাটি লিভার ও ডায়াবেটিস—উভয় সমস্যাই অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *