
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “বিচার, সংস্কার, তারপর নির্বাচন—এই তিন ধাপেই জাতির সামনে এগোতে হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বিচারকে দৃশ্যমান করতে হবে, শুরু করতে হবে। যারা গুলি চালিয়েছে, গণহত্যা চালিয়েছে—তাদের বাংলার মাটিতেই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। শেখ হাসিনা এবং গুলিতে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
আজ শনিবার বেলা ১১টায় বগুড়ার পর্যটন মোটেলে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “ভবিষ্যতে যেই সরকারই আসুক, এই বিচার থামাতে পারবে না। শহীদ পরিবার ও আহতদের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এনসিপির জুলাই ঘোষণাপত্রে শহীদদের মর্যাদা ও অবদানের স্বীকৃতি থাকবে, এবং ‘জুলাই সনদে’ সংস্কার অগ্রাধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “গণহত্যা সংক্রান্ত মামলাগুলো নিয়ে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। মামলা নিয়ে বাণিজ্য হয়েছে, পুলিশ আসামিদের ধরেও ছেড়ে দিয়েছে। অনেক জায়গায় জামিনও হয়েছে। কারণ এখনো স্বৈরাচারী শাসকের দোসরেরা সক্রিয়, যারা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখছে। এনসিপি এসব মামলার তদারকি করবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, আজীবনের। এনসিপি শহীদ পরিবারের পাশে থাকবে এবং তাদের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য—একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন—বাস্তবায়নে কাজ করবে। এই আন্দোলনে এক হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন, তাঁদের রক্ত যেন বিফলে না যায়।”
সভায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। তিনি বলেন, “প্রতিটি মৃত্যু বেদনার, আর আন্দোলনে শহীদ পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যদিও আহতদের চিকিৎসা নিয়ে নানা ভোগান্তি হয়েছে, তবুও রাষ্ট্রকেই তাঁদের সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।”
পরে এনসিপি নেতারা বগুড়া শহরের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে সাতমাথা পর্যন্ত পদযাত্রা করেন। পদযাত্রা শেষে দুপুর ১২টা থেকে সাতমাথার মুক্তমঞ্চে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।