
খেলা ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফুটবলের সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরা কিংবা গলায় মেডেল ঝুলানোর চিরাচরিত দৃশ্যে এবার যোগ হচ্ছে এক নতুন মাত্রা। ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের ইতিহাসে এই প্রথমবার বিজয়ী দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের আঙুলে উঠবে বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা নিশ্চিত করেছে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
উত্তর আমেরিকার ক্রীড়া সংস্কৃতিতে চ্যাম্পিয়নশিপ রিংয়ের ঐতিহ্য বেশ পুরনো। যুক্তরাষ্ট্রের এনবিএ (বাস্কেটবল), এনএফএল (আমেরিকান ফুটবল) কিংবা এমএলবি (বেসবল)-এর মতো জনপ্রিয় লিগগুলোয় চ্যাম্পিয়নদের এই বিশেষ আংটি দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপ দিয়ে সেই ঐতিহ্যকে এবার ফুটবল বিশ্বেও যুক্ত করল ফিফা।
রিংয়ের বিশেষত্ব ও সরবরাহ:
ফিফার অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে মোট ২ হাজার ২৬টি বিশেষ রিং তৈরি করা হবে। তবে এর মধ্যে মাত্র ৩০টি রিং বরাদ্দ থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলের স্কোয়াড ও কোচিং স্টাফদের জন্য। বাকি ১ হাজার ৯৯৬টি রিং অফিশিয়াল লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্মারক পণ্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাজারে উন্মুক্ত করা হবে।
বিজয়ীদের জন্য নির্ধারিত প্রতিটি আংটি হবে অনন্য ও সিরিয়াল নম্বরযুক্ত। এর এক পাশে ফুটিয়ে তোলা হবে বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা, আর অন্য পাশে থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলের পরিচয়, নিজস্ব রঙ ও প্রতীক। প্রতিটি রিং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা স্টাফের আঙুলের নিখুঁত মাপে তৈরি করা হবে এবং এর সাথে থাকবে একটি অফিশিয়াল সত্যায়নপত্র (সার্টিফিকেট অব অথেনটিসিটি)।
কখন ও কীভাবে দেওয়া হবে?
ফাইনাল ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চেই বিজয়ী দলের অধিনায়ক ও প্রধান কোচের হাতে স্মারক হিসেবে অস্থায়ী রিং তুলে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে দলের বাকি খেলোয়াড় এবং স্টাফদের সঠিক মাপ নিয়ে ৩০টি মূল রিং আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবে ফিফা।
এবারের মেগা ফাইনালে চতুর্থ শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা এবং দ্বিতীয় ট্রফির খোঁজে লড়বে স্পেন। যে দলই শিরোপা জিতুক না কেন, সোনালি ট্রফির পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে ফিফার এই অভিজাত ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ পরার গৌরব অর্জন করবে তারা।