
গরমে তৃষ্ণা মেটাতে তরমুজের জুড়ি নেই। কিন্তু অনেক সময় বাইরে থেকে সুন্দর দেখালেও ভেতরে মিষ্টি না–ও হতে পারে। তাই ভালো তরমুজ বেছে নিতে কিছু সহজ কৌশল জানা জরুরি।
প্রথমেই লক্ষ্য করুন তরমুজের গায়ে থাকা হলুদ দাগ বা ‘ফিল্ড স্পট’। এই দাগ যত গাঢ় হলুদ হবে, তরমুজ তত বেশি পাকা ও মিষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর যদি দাগটি ফ্যাকাসে বা সাদা হয়, তাহলে বুঝতে হবে তরমুজটি ঠিকমতো পাকেনি।
এরপর আসে ওজনের বিষয়টি। একই আকারের দুইটি তরমুজের মধ্যে যেটি তুলতে ভারী মনে হবে, সেটিই নিন। কারণ ভারী তরমুজের ভেতরে পানির পরিমাণ বেশি থাকে, যা সাধারণত বেশি রসালো ও সুস্বাদু হয়।
তরমুজের খোসার দিকেও নজর দিন। ভালো তরমুজের খোসা সাধারণত গাঢ় সবুজ ও কিছুটা ম্যাট বা কম চকচকে হয়। অতিরিক্ত চকচকে তরমুজ অনেক সময় পুরোপুরি পাকা না–ও হতে পারে।
ডাঁটা বা মাথার অংশ দেখে বোঝা যায় তরমুজটি কখন তোলা হয়েছে। যদি ডাঁটা শুকনো ও বাদামি হয়, তাহলে বুঝবেন এটি পাকা অবস্থায় গাছ থেকে তোলা হয়েছে। আর সবুজ ডাঁটা থাকলে সেটি আগে কেটে আনা হতে পারে।
আরেকটি কার্যকর উপায় হলো টোকা দিয়ে দেখা। তরমুজে হালকা টোকা দিলে যদি গভীর ‘ঠুস ঠুস’ ধরনের শব্দ শোনা যায়, তাহলে সেটি পাকা। কিন্তু ‘ঢুপ ঢুপ’ বা চাপা শব্দ হলে সতর্ক হওয়াই ভালো।
তরমুজের আকৃতিও গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি বাঁকা বা অস্বাভাবিক আকারের তরমুজ এড়িয়ে চলাই ভালো। সাধারণত গোল বা ডিম্বাকৃতি তরমুজ ভেতরে সমানভাবে পাকে।
মোহাম্মদপুরের টাউনহল বাজারের বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, “অনেকে শুধু বড় দেখে তরমুজ কেনে। কিন্তু আসল বিষয় হলো ওজন আর হলুদ দাগ—এই দুইটাই ঠিক থাকলে তরমুজ মিষ্টি হবেই।”
আরেক বিক্রেতা রমজান আলী জানান, “টোকা দিয়েই বোঝা যায়। ‘ঠুস ঠুস’ শব্দ হলে সেটাই ভালো তরমুজ।”
সব মিলিয়ে বলা যায়, তরমুজ কেনা আর অনুমানের বিষয় নয়। একটু খেয়াল করলেই সহজেই বেছে নিতে পারবেন সবচেয়ে ভালো ও মিষ্টি তরমুজ, আর বাসায় গিয়ে হতাশ হওয়ার সুযোগ থাকবে না।