মনোহরগঞ্জে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম


নিজস্ব প্রতিনিধি\ কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সব সড়ক এখন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দখলে। উপজেলার প্রধান সড়ক মনোহরগঞ্জ উপজেলার অলিগলিতে চলছে বেপরোয়া এসব যানবাহন। দিনের পর দিন এসব যাবাহনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এতে নিত্য যানজটের কবলে পড়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে চালকদের বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।
জানা গেছে, ৭-৮ বছরের ছেলেরা ও অনভিজ্ঞ লোকেরা অটোরিকশা চালানোর পেশায় জড়িত। মানুষের এই ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পেতে এবং সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রæততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা সদরে মনোহরগঞ্জ বাজার, লক্ষণপুর বাজার, হাসনাবাদ বাজার, খিলা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বেপরোয়াভাবে অটোরিকশাগুলো চলছে। কে কার আগে যাবে, চলছে সেই প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকদের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা বেশি দেখা যায়। তাছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো রাস্তায় যত্রতত্র রাখার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এসব অটোরিকশায় লাগানো হয়েছে হাইড্রোলিক হর্ন ও এলইডি লাইট। এর ফলে হচ্ছে শব্দদূষণ এবং এলইডি লাইটের কারণে রাতে বাড়ছে দুর্ঘটনা।
মনোহরগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাসুদুল আলম বাচ্চু বলেন, ভোর থেকে গভীর রাত অবধি ব্যাটারিচালিত রিকশা উপজেলা সদরের ব্যস্ততম সড়কগুলো দাফিয়ে বেড়াচ্ছে। এরা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চালানোর কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের উচিত এগুলো আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া। ব্যাটারিচালিত অবৈধ ইজিবাইক ও রিকশা এখন উপজেলাবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মনোহরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমানে অটোরিকশার জন্য বাজারে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করা যায় না। সড়কে দ্রæত গতিতে চলাচল করায় প্রায়ই তারা গায়ের ওপর উঠিয়ে দেয়। অনেক সময় অঙ্গহানির ঘটনাও ঘটে। বর্তমানে যাত্রীর চেয়ে সড়কে অটোরিকশার পরিমাণ অনেক বেশি। আবার এসব যানবাহনকে ঘিরে অনেক জায়গায় চলে চাঁদাবাজি।
পথচারী মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, ব্যাটারিচালিত এসব অটোরিকশার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ এখন রাস্তায় চলাচল করতে ভয় পায়। প্রতিদিনই মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আমি উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনকে এ বিষয়ে দ্রæত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, চালকরা বিভিন্ন বয়সের হওয়ায় এবং তাদের অভিজ্ঞতা না থাকা, ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ প্রতিদিন এ ধরনের ছোটখাটো দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। আমাদের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়ার না থাকায় এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না।
মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজালা পারভীন রুহি বলেন, আমরা সচেতন করছি যাতে করে ছোট বাচ্চারা সড়কে অটোরিকশা না চালায়। ১৮ বছরের নিচে জরিমানা বিধান না থাকায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছি না।
