মনোহরগঞ্জ উপজেলার প্রসিদ্ধ আমতলী বাজার সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর উপর ব্রিজটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ!

              কুমিল্লা জেলাধীন মনোহরগঞ্জ উপজেলার আমতলী-বড় কেশতলার সংযোগে ডাকাতিয়া নদীর ওপর অবস্থিত ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে এটি এলাকার  মানুষের জন্যে যেনো একটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়ে পড়েছে। চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অথচ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ব্রিজটির উপর দিয়ে প্রতিনিয়তই চলাচল করে যাচ্ছেন অসংখ্য মানুষজন এবং যানবাহনও।

              সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, আমতলী-কেশতলার সংযোগস্থলে ডাকাতিয়া নদীর ওপর পুরোনো একটি ব্রিজ রয়েছে। আসলে বর্তমানে এটি চলাচলের উপযোগী নয়! অথচ, ধিকচান্দা, বচইড়, বড়কেশতলা ও আমতলীসহ লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ এলাকার অগণিত মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এ ব্রিজটি।

              এসব এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষজন ছাড়াও প্রতিনিয়তই শত শত শিক্ষার্থীরাও এই আমতলী ব্রিজ ক্রস করে চলাচল করে থাকেন। অথচ, অনেক দাবী-দাওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন থেকেই ব্রিজটি সংস্কার না হওয়ার কারণে যানবাহন চালকরা এ পর্যন্ত অগণিত সংখ্যক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। সাম্প্রতিককালে আমতলী গ্রামের একজন অটোরিকশাচালক এ ব্রিজ থেকে পড়েই মারা গেছেন।

              এই আমতলী ব্রিজ সম্পর্কে অটোরিকশাচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ব্রিজের বেহালদশার কারণে প্রতিনিয়তই যাতায়াতে দুর্ভোগে পোহাচ্ছেন এলাকার হাজারও মানুষ।

              মূলতঃ ভৌগলিক কারণে সড়কটির সঙ্গে ধিকচান্দা, বচইড়, আমতলী, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ সড়কের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকায় প্রতিনিয়তই শত শত যাত্রী ও পথচারী ব্রিজটির ওপর দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে যাচ্ছেন। তদপুরি, গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজটির উপর দিয়ে রাতের বেলায় চলাচলে আরো অধিকতর ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্রিজের দুই পাশ অনেক উঁচু হওয়াতে একটি গাড়ি ব্রিজে উঠলে তখন আর অন্য গাড়ি ক্রস করতে পারেন না।

              সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. জসিম উদ্দিন জানান, নিরুপায় হয়ে প্রতিনিয়তই মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েই তারা এহেন জরাজীর্ণ ব্রিজের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

              উল্লেখ্য, এই পর্যন্ত এখানে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে দূরপাল্লার অপরিচিত কেউ এ সড়কে এবং আমতলী ব্রিজের উপর দিয়ে যাতায়াত করতে চাইলে বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ, বিগত সময়ে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডিকে নাকি একাধিকবার অবহিত করেও এ ব্যাপারে কোনো কর্নপাত করা হয়নি। ২/১ জন নেতার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও এ পর্যন্ত শেষ- বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।

              এছাড়া, আমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সুযোগ্য সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল আলম বলেন, গত ২০ বছর আগে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এই ব্রিজের পশ্চিম ও পূর্ব দু’পাশ অনেক উঁচু ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ, এ ব্রিজ ক্রস করে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি এলাকার মানুষজনেরাও পায়ে হেঁটেও যাতায়াত করে থাকেন। তদপুরি, এদের অনেকেই প্রায়ই ছোটোখাটো দুর্ঘটনায় কবলেও পড়ে থাকছেন।

              তিনি বলেন, দক্ষিণ পাশের অসমাপ্ত ব্রিজটি দ্রুত বাদবাকি কাজ শেষ করে এ ব্রিজ বন্ধ করে দেয়া একান্তই জরুরি হয়ে পড়েছে।

              এছাড়া, পার্শ্ববর্তী বড়কেশতোলা গ্রামের মীর মোশাররফ হোসেনও উল্লেখিত প্রসিদ্ধ বাজার সংলগ্ন ভগ্নপ্রায় অবস্থায় পতিত আমতলী-বড়কেশতোলা ব্রিজের পূণ:নির্মাণের কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

              এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, পরিষদ থেকে এ অর্থবছরে বরাদ্দ পেলে ব্রিজটি সংস্কার করা হবে। তদপুরি, মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজালা পারভীন রুহি বলেন, যে কোনো জনদুর্ভোগে উপজেলা প্রশাসন সজাগ রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি সংস্কার করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

              মূলত: দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ডাকাতিয়া নদীর উপরস্থ উক্ত আমতলী- কেশতোলা রুটের ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়তে পারে এবং এতে করে সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। -শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বদেশ রেস্তোরাঁ এন্ড পাটি সেন্টার