বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লাকসামবার্তা’র ৩০ বছর ও মসজিদে বাবরী

লাকসামবার্তা’র ৩০ বছর ও মসজিদে বাবরী
২৬ Views

\ অধ্যক্ষ নুরুন্নবী রহমানী \

            দুনিয়ার জমিনে একটি উৎকৃষ্ট  জায়গার নাম হলো মসজিদ।  মসজিদ   মানে সিজদার জায়গা। আর অতি নিকৃষ্ট  জায়গা হলো বাজার।  দুনিয়ার জমিনে  অনেকগুলো মসজিদ  আছে, তন্মধ্যে তিনটি  মসজিদ  ফজিলতের দিক থেকে অনেক  শান-মানের অধিকারী।

            খানা কা’বা বা  বায়তুল্লাহ যাকে বলা হয়। এটিকে বাইতুল্লাহ বলা হয়, শান-মান বুঝানোর  জন্য।  ফিরিশতাগণ এ মসজিদ প্রথমে নির্মাণ করেন। এরপর হজরত  আদম (আঃ) তা নির্মাণ  করেন। এ পর্যন্ত ১৩/১৪ বার এ ঘর নির্মান ও সংস্কার করা হয়। এখানে নামাজ পড়লে প্রতি  রাকাআতে এক লক্ষ রাকাআতের ছাওয়াব পাওয়া যায়। এভাবে  সব ইবাদত।

            এখানে একবার যে কোনো তসবিহ পড়লে এক লক্ষ করে নেকী পাওয়া যাবে। এখানে ইসলামের অনেক নিদর্শন  বিদ্যমান। এটি পৃথিবীর মধ্য বিন্দুতে বিরাজমান।  হজের প্রধান কাজ এ  কাবায় বা আশে-পাশে তওয়াফ করা। কালো গিলাফে আচ্ছাদিত এ ঘরের উত্তর দিকে হাতীমে কাবা অবস্থিত। খানা কাবার সামনে  আছে জমজম, হাজরে আসওয়াদ, মাকামে  ইবরাহীম  ইত্যাদী।

            দুনিয়ার জমিনে মদীনা শরীফে আছে  মসজিদে নববী। এটি নির্মাণ করেন পেয়ারা নবী সাঃ। এ মসজিদে নামাজসহ বিভিন্ন  ইবাদতে ৫০ হাজার নেকি পাওয়া  যাবে।  মসজিদ নববীর ভিতর আছে নবীর রাওজা মোবারক। আশেকানে রাসুল (সাঃ)  গণ  নবীজীর উপর দুরূদ শরীফ পড়ে ডাইরেক্ট  ইশক মুহববত লাভ করেন। মদীনা শরীফ হচ্ছে ঈমানের  কাবা। এটা হলো রূহানী  শক্তির আধার, আলহামদুলিল্লাহ।

            ফিলিস্তিনের জমিনে আছে বাইতুল মোকাদদাস। হজরত সোলেমান (আঃ) এটি নির্মাণ করেন। এক লক্ষ ২৪ হাজার  নবী এটাকে কাবা বানিয়ে নামাজ পড়েছেন। এখানকার  ইবাদতও মসজিদে  নববীর তুল্য। এখান থেকে নবীজির  মি’রাজ  হয়েছিল। উর্ধগগনে তথা আরশ আজিমে গিয়ে নবীজি (সাঃÑ সচক্ষে   আল্লাহর দিদার লাভ করেন।

            খানা কাবার ঠিক ওপর, বাইতুল  মামুরের অবস্থান। এটা ফিরিশতাদের কাবা। এ মসজিদে প্রতিদিন ৭০ হাজার  ফিরিশতা  নামাজ পড়ে। একদিন যারা সেথায় নামাজ পড়বে, কিয়ামত তক কেউ ২য় বার প্রবেশের সুযোগ পাবে না। এ আলোচনা থেকে আল্লাহর  ফিরিশতাগনের পরিসংখ্যান  পাওয়া যায়।

            এবার আসা যাক, ভারতের  বাবরী  মসজিদ প্রসঙ্গে- দিল্লির সুলতান জহির উদদীন বাবর এর পুত্র বাদশাহ হুমায়ুন এ মসজিদ নির্মাণ করেন। কতো লক্ষ লক্ষ  মুসলমান এ মসজিদে নামাজ পড়েছেন, তার শুমার নাই। ৪২৮ বছর বয়সে এ মসজিদ  ভেঙে চুরমার করে উগ্র হিন্দুরা। ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর রোজ রবিবার পড়ন্ত বেলায়। সারা দুনিয়ায় এর তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠে। মামলা হয় মাগার রেজাল্ট ট্রিপল জিরো। হিন্দুদের রাজত্ব। সব তাদের  বিজয় জয়কার। যাক, ৩৩ বছর পর ২০২৫ সালের ৬ই ডিসেম্বর শনিবার নিউ বাবরী মসজিদ নির্মাণ শুরু হয়। আরেক সুসাহসী মহৎপ্রান লোক, নাম তার হুমায়ুন। তাঁর আহবানে  লক্ষ লক্ষ মুসলিম এমনকি অনেক হিন্দুও সহস্তে ইটসহ নির্মাণ সামগ্রী  বহন করেন এ মসজিদ নির্মাণে মারহাবা।

            প্রসংগত বলতে হয়, এ মসজিদ  নির্মাণে ৩০০ কোটি  টাকা খরচ হবে বলে জানা গেছে। তবে প্রথম তিন দিনেই ৫০১ কোটি  টাকা ফান্ডে জমা হয়েছে, আরো বহু টাকা জমা হবে, ইনশাআল্লাহ, শুকরিয়া জানাচ্ছি বার বার। আলহামদুলিল্লাহ।

            ইতিমধ্যে গত ২ জুমায় মসজিদ  কমপ্লেক্সে লক্ষ লক্ষ মানুষ নামাজ  পড়েছেন। মসজিদ  নির্মাণে সময় লাগবে তিন বছর। এতে ইতিমধ্যে সারা ভারতে হিন্দুদের গায়ে আগুন লেগেছে। মুসলমানরা ত্রি-গুণ ঈমানী শক্তি সাহস নিয়ে সকল কাজ আন্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।

            এ মসজিদ নির্মাণে মজার বিষয় হলো – ইতিপূর্বে এলাহাবাদ হাইকোর্ট মুসলিম  নেতাদেরকৃত সব মামলা বার বার খারিজ  করেছে। আল্লাহর কী লীলা- কোলকাতা  হাইকোর্ট এ মসজিদ নির্মাণে যুগান্তকারী  রায় দিয়েছেন। শুধু তাই নয়; হিন্দুদের  কাউন্টার মামলাগুলোও খারিজ করে মুসলমানদেরকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে  যাচ্ছেন।

            এ লেখার প্রসংগে বলতে হয়, পত্রিকাটি ১৯৯৭ সালের  সুচনা থেকে উদার মানসিকতা  নিয়ে  দক্ষিণ  কুমিল্লার বহুমুখী খেদমাত করে ভূয়সী প্রশংসার ঝুলি ভারী করেছে সরকারি  মিডিয়াভুক্ত দৃষ্টি নন্দন সাপ্তাহিক লাকসামবার্তা পত্রিকাটি। সারা বাংলাদেশের মফস্বল পত্রিকার মাঝে  ‘সেকেন্ড প্যালেস’ লাভ করেছে। এ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আলহাজ্ব  শহীদুল্লাহ ভুঁইয়া সুদূর আমেরিকার  নিউইয়র্ক থেকে মেধা মননশীলতার  মাধ্যমে এটিকে চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁকে   সর্বময় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন, ভারপ্রাপ্ত  সম্পাদক জনাব তোফায়েল আহমেদ। তাকে  সহযোগিতা  করছেন  একদল কলম সৈনিক।

            পত্রিকাটি ভবিষ্যতে  দেশ-জাতি- রাষ্ট্রের  বহুমুখী  সেবা দানে আরো অগ্রনী ভুমিকা  পালন  করবে- এটাই সকলের প্রত্যাশা। শীতকালের প্রচন্ড ঠান্ডা মুহুর্তে পত্রিকার সম্পাদকসহ সকল কর্মকর্তা, ও সাংবাদিকগনের সুখ সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহর দুয়ারে কায়মনোবাক্যে  মুনাজাত  করছি।

            লাকসামবার্তা পত্রিকাটি অত্রাঞ্চলের আঁধারে আলো, সুখে সুখী, দুঃখে দুঃখী। এটি লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাংগলকোট   উপজেলার কয়েক লক্ষ মানুষের মনের  মাধুরী। বহুমুখী সমস্যা সমাধানের দিক দর্শক। এটি একাকীত্বের একনিষ্ঠ  সাথী, হতাশায় আলোর  দিশারী। সন্ত্রাসী ও নিরীহ জনগণের মাঝে শান্তির বার্তা  বাহক। বিগত ২৯ বছরের  পুর্ণ শক্তির আধার সাপ্তাহিক  লাকসামবার্তা।  সাধারণ  জনগন যখন হতাশার সাগরে  নিমজ্জমান, ওই মহা বিপদে লাকসামবার্তা পরিত্রাণের বার্তা নিয়ে আসে। এর কোনো প্রকার ক্ষতি  হতে দেখলে, অস্থির হয়ে  পড়ে সাধারণ  মানুষ। বিশেষ করে পাঠককুল এ পত্রিকাটির সর্বাঙ্গীন কল্যান কামনা করে। বস্তুতঃ এ পত্রিকাটি পাঠককুলের নাড়ির সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। প্রথম থেকেই এ পত্রিকাট এ অঞ্চলের সকল মানুষের  মনের  সাথে এমন সখ্যতা গড়ে তুলেছে, যেন ‘তারে দেখলে তরি- নইলে মরি’ অবস্থা। লেখকঃ অধ্যক্ষ, পাটোয়ার ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা, নাংগলকোট, কুমিল্লা।    ০১৭০৪৯৭৫১০৪

Share This