স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে ‘একক প্রার্থী’ চান তারেক রহমান

              ষ্টাফ রিপোর্টার\ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায় ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং তৃণমূল নেতাদের সরাসরি দিকনির্দেশনা দিতে মাঠপর্যায়ের সংগঠকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

              ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবে গত শনিবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট জেলা এবং রংপুর জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

              এর আগে ১৮ই জুলাই রংপুর বিভাগের অন্য ৩ জেলার নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করে সাংগঠনিক নির্দেশনা দেন বিএনপি প্রধান। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে দলের ‘একক প্রার্থী’ নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করে বিজয়ের পথ প্রশস্ত করাই এসব নির্দেশনার অগ্রভাগে স্থান পেয়েছে বলে জানা গেছে।

              সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ ঘোষণা না করা হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে এরই মধ্যে সরকারের তরফে আভাস মিলেছে। নির্বাচন কমিশনও (ইসি) এ নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো ক্ষমতাসীন বিএনপিও মাঠপর্যায়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করছে।

              বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া সম্পূর্ণ নির্দলীয় ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে প্রতীকের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রে যাতে কোনো বিভেদ সৃষ্টি না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখছে হাইকমান্ড।

              গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধশতাধিক আসনে দলের প্রার্থীরা ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করায় তৃণমূলের অনেক জায়গায় কোন্দল ও বিভক্তি তৈরি হয়েছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে এবার তারেক রহমান নেতাদের সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ থাকার আহŸান জানিয়েছেন। দলীয় প্রতীক না থাকলেও প্রার্থীদের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত যেন সামষ্টিক হয় এবং নির্দ্বিধায় একক প্রার্থীর পক্ষে সবাই একযোগে কাজ করেন, সেটি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

              বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক নেতা জানান, নির্বাচনে ভালো ফল করতে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বলা হয়েছে। সেখানে জনপ্রিয়তাকেই প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বেছে নেয়ার বার্তা দেয়া হয়েছে। মত ভিন্নতা কিংবা কোন্দলকে প্রশ্রয় না দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।

              বৈঠক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, এটি ধারাবাহিক বৈঠক। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতেই এই মতবিনিময় সভা করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সভায় প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিচ্ছেন।

              বৈঠকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলার নেতাদের সঙ্গেও বিএনপি চেয়ারম্যানের অনুরূপ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *