
নিজস্ব প্রতিনিধি\ ৫ মাস আগে আড়াই লাখ টাকা যৌতুকের বিনিময়ে জান্নাতের বিয়ে হয় সালাউদ্দিনের সাথে। বিয়ের কিছুদিন পর জান্নাতকে অপছন্দ করতে থাকে স্বামী। জান্নাতের গায়ের রঙ কালো ও খাটো এ নিয়ে প্রায়ই খোটা দিতো তাকে। এতে ক্ষোভ, অভিমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় জান্নাত। গত শনিবার সকালে স্বামীর বসত ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে উড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে সে। খবর পেয়ে জান্নাতের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতি গ্রামের আন্দারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সালাউদ্দিন মো. আবুল বাসারের ছেলে এবং সে পেশায় একজন অটোচালক। নিহত জান্নাত আক্তার (১৯) একই গ্রামের কাজী পাড়ার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলামের মেয়ে। ঘটনার পর থেকে সালাউদ্দিন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রতিবেশীরা জানায়, এ বাড়িতে জান্নাত ও তাঁর স্বামীসহ বাসবাস করত। জান্নাতের শ্বশুর-শাশুড়ি বুড়িচং উপজেলার কোরপাই এলাকার একটি কারখানায় কাজ করেন। বিয়ের পর থেকে জান্নাতকে অপছন্দ সালাহ উদ্দিনের। কারণ তার গায়ের রঙ কালো, দেখতে খাটো। এ জন্য তাকে প্রায়ই অবহেলা-অবজ্ঞা ও গালি গালাজ করত। এ লজ্জা ও ক্ষোভে জান্নাত আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।
নিহত জান্নাতের চাচা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিয়ের আগে বরপক্ষ মেয়ে দেখে পছন্দ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী আড়াই লাখ টাকা নগদ যৌতুক দেয়া হয়েছে। ওই টাকার লোভে ছেলে কালো জেনেই বিয়েতে রাজী হয়। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে ওই ছেলে জান্নাতকে অপছন্দ করা শুরু করে। এ নিয়ে প্রায়ই জান্নাতের ওপর নির্যাতন করত। গত শুক্রবার বিকালে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসে জান্নাত। সকালে খবর পাই সে আত্মহত্যা করেছে। তারা আমার ভাতিজিকে মেরে ফেলেছে। আমরা এ হত্যার বিচার দাবি করছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক এসআই কৃষ্ণ মোহন বলেন, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে, কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নয়ন মিয়া বলেন, স্বামীর বাড়ি থেকে জান্নাতের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জান্নাতের বাবা বাদি হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।