👁 490 Views

৬ কোটি ২২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নাঙ্গলকোটে ডাকাতিয়া নদীর উপর চারিতুপা সেতুর নির্মাণ কাজ দীর্ঘ ৩ বছরেও শেষ না হওয়ায় জনভোগান্তি চরমে

            আবুল কাশেম গাফুরী\ কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মৌকারা ইউনিয়নের চারিতুপায় ডাকাতিয়া নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতুর নির্মাণ কাজ গত ৩ বছরেও শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসীর যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসীর যাতায়াতে নৌকাই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

            জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কন্ট্রাকশন এন্ড কোঃ লিমিটেড মেসার্স এম এ তাহের (জেবি) ৩ বছর পূর্বে ৭৫ মিটার দীর্ঘ এ সেতুর কাজটি শুরু করলেও তাদের অবহেলায় আজও এ কাজটি শেষ হয়নি। নৌকায় যাতায়াতে এলাকাবাসীর মালামাল পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া নৌকা দিয়ে পারাপারে শিশু, বয়স্ক মানুষ, প্রসূতি মায়েদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে নদী পার হতে হয়। সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় এক মা তার দেড় বছরের কন্যা শিশুকে নিয়ে নৌকায় নদী পার হতে গিয়ে শিশুটি পানিতে পড়ে যায়। পরে এলাকাবাসী পানিতে ঝাঁপ দিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে।

            এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, নাঙ্গলকোট ও চৌদ্দগ্রাম সীমান্তবর্তী ডাকাতিয়া নদীর মৌকারা ইউনিয়নের চারিতুপা গ্রামের ৫ শতাধিক মানুষ গত ৩০ বছর পূর্বে এলাকাবাসীর যাতায়াতে নিজেদের উদ্যোগে কখনো বাঁশের সাঁকো আবার কখনো কাঠের সেতু নির্মাণ করে যাতায়াত করতেন। এ সেতু দিয়ে তারা নাঙ্গলকোট উপজেলা সদরসহ বিভিন্নস্থানে যাতায়াত করে থাকেন। অন্যদিকে এ সেতু দিয়ে চৌদ্দগ্রামের কনকাপৈত ইউনিয়নের মানুষও নাঙ্গলকোটের বিভিন্ন গ্রামে যাতায়াত করতেন। এছাড়া নাঙ্গলকোটের মৌকরা, রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ এ সেতু পার হয়ে চৌদ্দগ্রামের পন্নারা গ্রাম ও দৌড়করা বাজার দিয়ে চিওড়া বিশ্বরোড হয়ে ঢাকা-চট্রগ্রামে সহজে যাতায়াত করতেন।

            নদীতে নৌকা চালানো দু’জন নৌকার মাঝি আইয়ুব আলী ও বাবুল মিয়া জানান, প্রতিজন ১০ টাকা করে এলাকাবাসীকে নৌকা দিয়ে পারাপার করেন। প্রতিদিন তাদের ১৮শ’ টাকা করে আয় হয়। নৌকা দিয়ে যাতায়াতকারী চারিতুপা গ্রামের রোকসানা ও কোহিনুর বেগম বলেন, নৌকা দিয়ে ছোট বাচ্চা এবং প্রসূতি মায়েদের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে যাতায়াতে এলাকাবাসীকে অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

            জানা যায়, দু’উপজেলার সহজ যাতায়াতের জন্য নাঙ্গলকোট এলজিইডি গত ৩ বছর পূর্বে ডাকাতিয়া নদীর উপর ৭৫ মিটার দীর্ঘ চারিতুপা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালীপনায় দীর্ঘদিনেও সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে গত ৭ মাস থেকে সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

            চারিতুপা গ্রামের সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব শামছুল আলম ও কৃষক ইব্রাহিম বলেন, গত ৩ বছর পূর্বে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হলেও অজ্ঞাত কারনে সেতুর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় আমাদের নৌকা দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করতে হয়। এলাকার অসুস্থ রোগী, শিশু ও প্রসূতি মায়েদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া কোমলমতি শিশু, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পাশ্ববর্তী মোড়েশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৌকারা দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসাসহ নাঙ্গলকোট হাছান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজে নৌকা দিয়ে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বর্তমানে সেতুর নির্মাণ কাজের ধীরগতির কারণে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তারা জরুরী ভিত্তিতে সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রæত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ফোন করেও তথ্য পাওয়া যায়নি।

            নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুল ইসলাম সিকদার বলেন, সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চুড়ান্তভাবে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার বিষয়ে কর্মপরিকল্পনাও দাখিল করতে বলা হয়েছে। সেতুটি নির্মান হলে এলাকাবাসীর দুর্দশা লাঘব হবে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *