সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ইসরায়েলের বর্বর ও নৃশংস আগ্রাসনে গাজায় ৮৩৫টি মসজিদ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস; নিহত হয় সাড়ে ৬৭ হাজার মানুষ

ইসরায়েলের বর্বর ও নৃশংস আগ্রাসনে গাজায় ৮৩৫টি মসজিদ সম্পূর্ণরূপে  ধ্বংস; নিহত হয় সাড়ে ৬৭ হাজার মানুষ
৬৩ Views

দীর্ঘ দুই বছর ধরে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলেন ইসরাইলি বাহিনী। এতে করে দেশটির বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ধর্মীয় ঐতিহ্য নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। গাজা উপত্যকার মোট ১ হাজার ২৪৪টি মসজিদের মধ্যে ৮৩৫টি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১৮০টি মসজিদ।

স্থানীয় গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া এসব স্থাপত্যের বেশিরভাগই মামলুক ও উসমানীয় আমলে নির্মিত হয়েছিলো। অত:পর, গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় গাজার যুদ্ধবিরতি। পুরো উপত্যকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি শতাব্দী প্রাচীন মসজিদ ও ঐতিহাসিক স্থাপনাও রক্ষা পায়নি। এছাড়া। ইসরায়েলের বর্বর ও নৃশংস আগ্রাসনে গত দুই বছরে প্রাণহানি ছাড়িয়েছে সাড়ে ৬৭ হাজার।

উল্লেখ্য, গাজার সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন মসজিদ ছিল প্রায় ১৪০০ বছর পুরনো মহান ওমরী মসজিদ। ‘ছোট আল-আকসা’ নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি একসময় ৫ হাজার বর্গমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল এবং এটি ছিল ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ। সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় এটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা, সাইয়্যিদ হাশিম মসজিদ, ২০২৩ সালের ৭ই ডিসেম্বর ইসরায়েলি বিমান হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এছাড়া মামলুক আমলে নির্মিত কাতিব আল-ওয়ালায়া মসজিদও হামলা থেকে রেহাই পায়নি; ২০২৩ সালের ১৭ই অক্টোবর এটিও ধ্বংস হয়ে যায়। চতুর্দশ শতকে নির্মিত ইবনে উসমান মসজিদ, আলী ইবনে মারওয়ান মসজিদ এবং ১৩৬১ সালে নির্মিত জাফার আদ-দিমরী মসজিদ–এগুলোর সবই এখন কেবল ধ্বংসস্তূপ। দক্ষিণ গাজার ১৯২৮ সালে নির্মিত গ্রেট খান ইউনিস মসজিদ, যা পরে ৩ হাজার বর্গমিটারের বেশি জায়গায় সম্প্রসারিত হয়েছিল, সেটিও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। মূলত: এই মসজিদগুলো কেবল উপাসনার স্থান হিসেবেই ছিলো না; বরং গাজার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবেই গণ্য ছিলো। ইসরায়েলি হামলায় এখন সেগুলোর জায়গায় পড়ে আছে কেবলই ধ্বংসাবশেষ মাত্র।পড়ে আছে। Ref: thikananews

Share This

COMMENTS